শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ১০ নম্বর আলীমাবাদ ইউনিয়নের চরমহিষা গ্রামে এ নাটকীয় ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন চরমহিষা গ্রামের মৃত আব্দুর রব তালুকদারের ছেলে হাকিম তালুকদার (৪৩) এবং তার ছোট ছেলে সাইফুল ইসলাম তালুকদার (১৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মেহেন্দিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রুবেল খানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল চরমহিষা গ্রামে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে বসতবাড়ির পশ্চিম পাশের একটি বাগান থেকে এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী হাকিম তালুকদারকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ২০ গ্রাম গাঁজা ও ১০টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
মাদকসহ হাকিমকে আটকের পর পুলিশ তাকে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে হাকিম কৌশলে ‘ডাকাত ডাকাত’ বলে চিৎকার শুরু করেন। তার চিৎকার শুনে স্বজনরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে তার স্ত্রী, বড় ছেলে মো. সাব্বির হোসেন (২২) এবং ছোট ছেলে সাইফুল ইসলাম লাঠিসোঁটা নিয়ে পুলিশের ওপর অতর্কিতভাবে হামলা চালান।
অভিযোগ রয়েছে, আসামিপক্ষের লোকজন পুলিশ সদস্যদের এলোপাতাড়ি মারধর করে আহত করেন। একপর্যায়ে হ্যান্ডকাফ পরানো অবস্থাতেই হাকিম তালুকদারকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যান তারা। আকস্মিক হামলা ও আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এ হামলায় পুলিশের চার সদস্য আহত হন। তাদের মধ্যে কনস্টেবল রাসেল গুরুতর আহত হওয়ায় তাকে উদ্ধার করে বরিশালের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত অপর তিন পুলিশ সদস্য হলেন এসআই আজাদ, কনস্টেবল ফিরোজ মোল্লা ও কনস্টেবল রায়হান।
পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার পর ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যরা পিছু না হটে দ্রুত অতিরিক্ত ফোর্স নিয়ে এলাকায় অভিযান শুরু করেন। পুলিশ সদস্যরা আশপাশের এলাকা ঘিরে ফেলেন এবং আসামি ও হামলায় জড়িতদের ধরতে অভিযান জোরদার করেন।
পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় রাত সোয়া ৮টার দিকে পার্শ্ববর্তী চরডাইয়া এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের একপর্যায়ে মূল আসামি হাকিম তালুকদার ও তার ছোট ছেলে সাইফুল ইসলামকে ফের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। পরে তাদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হাকিম তালুকদারের বিরুদ্ধে মেহেন্দিগঞ্জ থানাসহ বিভিন্ন থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। এর আগেও তাকে একাধিকবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় মেহেন্দিগঞ্জ থানা-পুলিশ বাদী হয়ে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করেছে। এর মধ্যে একটি মামলা করা হয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে। অপর মামলাটি সরকারি কাজে বাধা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা এবং গ্রেপ্তার করা আসামিকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা হয়েছে। ওই মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
মেহেন্দিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিন উদ্দিন জানান, পুলিশ সদস্যদের ডাকাত হিসেবে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা এবং গ্রেপ্তার আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটানো হয়েছিল। ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে মূল আসামিসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও জানান, মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে মেহেন্দিগঞ্জ থানা-পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক ব্যবসা, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
