আহত আবদুস সবুর শেখ সয়দাবাদ ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির। হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় তার স্ত্রী মোছা. শহর বানু বাদী হয়ে রোববার সকালে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে মামলা দায়েরের পরও এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, হাটিকুমরুল মোড়ের লং মার্চে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন আবদুস সবুর শেখ। পথে সয়দাবাদ মোড় মাদ্রাসা জামে মসজিদে জোহরের নামাজ আদায় করেন তিনি। নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় একদল ব্যক্তি রামদা, ড্যাগার ও চাপাতি নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আবদুস সবুর শেখকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এতে তার ডান হাতের কবজি, পেট ও পায়ে গুরুতর জখম হয়। হামলার একপর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতারা। জেলা জামায়াতের মুখপাত্র ও সহসাধারণ সম্পাদক মাওলানা শহিদুল ইসলাম হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান।
সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, জামায়াত নেতা আবদুস সবুর শেখের ওপর হামলার প্রতিবাদে শনিবার সন্ধ্যায় সিরাজগঞ্জ জেলা শহরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে জেলা জামায়াতে ইসলামী। এ সময় হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান দলটির নেতাকর্মীরা।
