সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বড় শালঘর এলাকায় মর্মান্তিক ও নৃশংস এ ঘটনা ঘটে। একই পরিবারের তিনজনকে হত্যার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে জড়ো হন এবং অভিযুক্ত যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে বড় শালঘর এলাকায় ইমন ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালান। এ সময় তিনি তার মা পেয়ারা বেগম, ভাবি রাবেয়া বেগম এবং ভাবির দুই বছর বয়সী শিশুকন্যাকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
হামলায় ঘটনাস্থলেই পেয়ারা বেগম ও তার দুই বছর বয়সী নাতনির মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় রাবেয়া বেগমকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে দ্রুত কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারও মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্ত ইমনকে আটক করেন। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। বর্তমানে পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়ে ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান জানান, মা পেয়ারা বেগম ও দুই বছর বয়সী শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে দেবিদ্বার থানায় রাখা হয়েছে। অন্যদিকে গুরুতর আহত রাবেয়া বেগমকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যুর খবর স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, তা জানতে পুলিশ ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে।
তবে তাৎক্ষণিকভাবে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেনি পুলিশ। পারিবারিক বিরোধ, ব্যক্তিগত কোনো বিষয় কিংবা অন্য কোনো কারণে এ ঘটনা ঘটেছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযুক্ত ইমনকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং ঘটনাটি বিস্তারিত তদন্তের পর হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ বলছে, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। নিহতদের মরদেহের প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দেবিদ্বারের বড় শালঘরে একই পরিবারের তিনজনকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগের এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
