সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার মারিখালি নদীর রতনপুর সেতুর নিচ থেকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তার মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি হেলাল উদ্দিনের বলে শনাক্ত করেন।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দুপুরে সোনারগাঁ পল্লীবিদ্যুৎ অফিসসংলগ্ন মারিখালি নদী থেকে হেলাল উদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির পর হেলাল উদ্দিনসহ একই পরিবারের চারজন নিখোঁজ হন। দুর্ঘটনার দুই দিন পর গত শনিবার ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত হেলাল উদ্দিনের ছেলে সজিব (২৪), মেয়ে সামিয়া (১৭) এবং শিশু ছেলে সামিনের (৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
গত বৃহস্পতিবার কুমিল্লার হোমনা থেকে ১৪ জন সোনারগাঁয়ের বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হারিয়া এলাকার সাজিয়া আক্তার ও শিশিরের বিয়েতে অংশ নিতে ট্রলারে করে রওনা দেন। দুপুর ৩টার দিকে ট্রলারটি সোনাময়ী এলাকায় পৌঁছানোর পরপরই ঝড়ের কবলে পড়ে নদীতে ডুবে যায়।
ডুবে যাওয়া ট্রলারটিতে ১৪ জন যাত্রীর পাশাপাশি বিয়ের বাজারের জন্য নেওয়া দুটি গরু ও একটি ছাগলও ছিল।
দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকা আমান কোম্পানির একটি ট্রলার দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে নয়জনকে জীবিত উদ্ধার করে। একই সময় রায়েসা বেগম (৪০) নামের এক নারীকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
ট্রলারডুবির পর নিখোঁজদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি কোস্টগার্ড, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), নৌ-পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন।
চার দিন ধরে চলা উদ্ধার অভিযানের পর সোমবার দুপুরে মারিখালি নদী থেকে হেলাল উদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্য দিয়ে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ একই পরিবারের চার সদস্যের মরদেহই উদ্ধার হলো।
