অভিযান চলাকালে রান্না করা খাবার ও অন্যান্য মালামাল সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ফুটপাতের ওপর স্তূপ করে রাখা কাঠের আসবাবপত্র ভেঙে ফেলা হয় এবং জঞ্জাল অপসারণ করে জায়গাটি পরিষ্কার করা হয়।
মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ডিএনসিসির অঞ্চল-৪-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জালাল উদ্দিনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে উপস্থিত ছিলেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলী। আগারগাঁও থেকে শুরু হয়ে শেওড়াপাড়া ও কাজীপাড়া হয়ে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের ফুটপাতে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকান ও অস্থায়ী স্থাপনা উচ্ছেদে এ অভিযান চালানো হয়।
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, এর আগে উচ্ছেদ অভিযানের পর এবার মিজানের কোনো স্থায়ী বা অস্থায়ী কাঠামো তৈরি করা ছিল না। এমনকি ক্রেতাদের বসার জন্য চেয়ার-টেবিলও আগে থেকেই সরিয়ে রাখা হয়েছিল। তবে পথচারীদের চলাচলের জন্য নির্ধারিত ফুটপাতের ওপর উন্মুক্ত চুলা বসিয়ে রান্নাবান্নার প্রস্তুতি চলছিল।
এ ছাড়া রান্নার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে পুরোনো কাঠের আসবাবপত্রও ফুটপাতের ওপর জড়ো করে রাখা হয়েছিল। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশে রান্না করা খাবার, তৈজসপত্র ও অন্যান্য মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে অবশিষ্ট কাঠ, জঞ্জাল ও অন্যান্য সামগ্রী অপসারণ করে পথচারীদের চলাচলের জন্য ফুটপাত উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
অভিযান সম্পর্কে জানতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী ডিএনসিসির অঞ্চল-৪-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তাদের কারও কাছ থেকেই কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। খুদে বার্তার মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত ১৬ আগস্ট রাজধানীর আগারগাঁওয়ের তালতলা এলাকায় প্রথম দফায় মিজানের দোকানসহ সড়কের দুই পাশের সব অবৈধ স্থাপনা ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ডিএনসিসি। ওই অভিযানে ফুটপাত ও সড়কের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনাও উচ্ছেদ করা হয়।
তারও আগে, গত ১০ আগস্ট অবৈধ বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গেলে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীদের ওপর চড়াও হওয়া এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মিজানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। প্রায় দুই সপ্তাহ কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান তিনি।
জামিনে মুক্ত হওয়ার পর মিজান আবারও ফুটপাতে দোকান চালু করার ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন, ‘তালতলার ফুটপাতে যদি কোনো একটি দোকানও থাকে, তবে তা তারই থাকবে।’
উল্লেখ্য, প্রায় এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাত্র ১০০ টাকায় গরুর মাংস ও ভাত বিক্রির একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন মিজান। পরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ভাইরাল মিজান’ নামে পরিচিতি পান।
সকালবেলা ফুটপাতেই গরুর মাংস ও ভাত রান্না করে স্বল্পমূল্যে পরিবেশন করতেন তিনি। তার এই ভ্রাম্যমাণ ভাতের হোটেলে দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষের ভিড় জমত। অল্প দামে খাবার বিক্রির কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ব্যবসা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।
তবে ফুটপাত দখল করে দোকান পরিচালনা ও সেখানে রান্নাবান্নার কারণে ডিএনসিসির উচ্ছেদ অভিযানের মুখে পড়েন মিজান। এরই ধারাবাহিকতায় আগের উচ্ছেদের পর আবারও ফুটপাতের ওপর রান্নার প্রস্তুতি নেওয়ায় মঙ্গলবার তার কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় সিটি করপোরেশন।
