প্রতিবছর শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে অনুদান দেওয়া হয়। এবার সেই বরাদ্দের পরিমাণ এক কোটি টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একইভাবে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসবের অংশ হিসেবে কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানের জন্যও চাহিদার তুলনায় এক কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে এবার শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটির পরিমাণও বাড়ছে। সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, আগামী ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার মহানবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে। ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমীতে থাকবে সাধারণ ছুটি। এর পরদিন ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার অফিস-আদালত খোলা থাকার কথা থাকলেও প্রধানমন্ত্রী ওই দিনও নির্বাহী আদেশে ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এরপর ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সরকারি চাকরিজীবীরা টানা পাঁচ দিনের ছুটি ভোগ করবেন।
সরকারি ছুটির দিনে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানও সাধারণত বন্ধ থাকে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু শাখা বা বিশেষ সেবা চালু থাকতে পারে। একই সঙ্গে এটিএম, কার্ড ও অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মতো ডিজিটাল সেবাগুলো সাধারণত চালু থাকে।
তবে হাসপাতাল, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সরবরাহের মতো জরুরি সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ছুটির দিনেও দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী গণমাধ্যমসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদেরও দায়িত্বে থাকতে হতে পারে।
দুর্গাপূজা ঘিরে টানা পাঁচ দিনের ছুটি থাকায় হিন্দুধর্মাবলম্বীদের উৎসব উদ্যাপনের জন্য বাড়তি সময় তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে ধর্মীয় উৎসবগুলোর জন্য চাহিদার চেয়ে বেশি অনুদান দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের উৎসব আয়োজনেও অতিরিক্ত সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃগোষ্ঠীবিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার প্রধানমন্ত্রীর এ উদ্যোগকে একটি ভিন্ন দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এক দিন ছুটি বাড়িয়েছেন, কিন্তু আমরা ছুটি পাচ্ছি পাঁচ দিন। এতে উৎসবটা পরিপূর্ণ ও স্বস্তিদায়ক হবে। আর প্রস্তাবের বেশি অনুদান দেওয়ায় হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান—সব সম্প্রদায়ের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে। এটা খুবই ইতিবাচক।’
