জাতীয় সংসদে বিষয়ভিত্তিক ও মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত মিলিয়ে মোট ৫০টি স্থায়ী কমিটি রয়েছে। জুলাই সনদের প্রস্তাব অনুযায়ী, এর মধ্যে ১৪টি কমিটির সভাপতি হওয়ার কথা বিরোধী দলের সদস্যদের। তবে এখন পর্যন্ত গঠিত ১৫টি কমিটির মধ্যে মাত্র সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতির পদ বিরোধী দলকে দেওয়া হয়েছে।
আগামী ২৭ আগস্ট থেকে শুরু হতে যাওয়া সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে বাকি ৩৫টি কমিটি গঠনের কথা রয়েছে। তবে এসব কমিটির আর কোনো সভাপতির পদ বিরোধী দলকে দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিরোধী দলের অভিযোগ, জুলাই সনদ অনুযায়ী আসনসংখ্যার অনুপাতে কমিটির সভাপতি পদ দেওয়ার কথা থাকলেও সরকার তা বাস্তবায়ন করছে না। তাদের দাবি, সংবিধান সংশোধন–সংক্রান্ত বিশেষ কমিটিতে প্রতিনিধি না দেওয়াকে কেন্দ্র করে সরকারি দল এই অবস্থান নিয়েছে।
বিরোধী দলের সংসদীয় দলের মুখপাত্র নাজিবুর রহমান মোমেনের অভিযোগ, বিশেষ কমিটিতে প্রতিনিধি না দিলে সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ দেওয়া হবে না—সরকারের পক্ষ থেকে এমন অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে। তিনি এটিকে জুলাই সনদের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেন।
তবে সরকারি দলের অবস্থান ভিন্ন। তাদের দাবি, জুলাই সনদের প্রস্তাব বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে সংবিধান সংশোধন। বিরোধী দল সেই প্রক্রিয়ায় অংশ না নেওয়ায় কমিটির সভাপতি পদ বণ্টনেও আগের নিয়ম অনুসরণ করা হবে।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, অতীতের রীতি অনুসরণ করেই সংসদীয় কমিটি গঠন করা হবে। তবে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়টি নিয়ে সংবিধান সংশোধন–সংক্রান্ত বিশেষ কমিটি কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে বিশ্লেষকদের মতে, সংসদীয় কমিটিতে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ সরকারের জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। জুলাই সনদের প্রস্তাব অনুযায়ী কমিটির সভাপতি পদ বণ্টন করা হলে সংসদীয় কার্যক্রমে ভারসাম্য আরও বাড়বে বলে মনে করছেন তাঁরা।
