রোববার দুপুর ১২টার দিকে ছয়তলা ভবনের পঞ্চম তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে মরদেহ ও দুই শিশুকে উদ্ধার করা হয়।
নিহত ইসরাত জাহান শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার সরকারদী গ্রামের মো. ইব্রাহিমের মেয়ে। তাঁর স্বামী শেরপুরের ঘটিয়াডাংগা গ্রামের মো. শাওন প্রায় এক বছর আগে মারা যান। ইসরাতের সাত বছর বয়সী একটি মেয়ে ও পাঁচ বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সন্তানদের নিয়ে প্রায় এক মাস ধরে ওই বাসায় বসবাস করছিলেন ইসরাত। তাঁর সঙ্গে মো. কাউসার আহাম্মেদ নামে এক যুবকও থাকতেন। বাড়ির মালিকের কাছে কাউসার নিজেকে ইসরাতের স্বামী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বাসাটি ভাড়া নেন। তিনি ব্যবসা করেন বলেও বাড়ির মালিককে জানিয়েছিলেন। তবে তাঁর বিস্তারিত পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রোববার সকালে ফ্ল্যাটের একটি কক্ষের জানালা দিয়ে দুই শিশুকে পথচারীদের কাছে পানি চাইতে দেখা যায়। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয়রা ফ্ল্যাটের সামনে গিয়ে বাইরে থেকে দরজায় তালা ঝুলতে দেখেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজার তালা ভেঙে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন। এ সময় একটি কক্ষের বিছানার ওপর ইসরাত জাহানের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পাশের একটি কক্ষে তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায় তাঁর দুই শিশুসন্তানকে।
পরে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ইসরাত জাহানকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত করে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা থানায় এসেছেন। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
