Amyal TV
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
১১ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
১১ কার্তিক ১৪৩৩

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক এগোতে হলে দুই পক্ষের স্বার্থ মানতে হবে: জয়শঙ্কর!

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে ‘পারস্পরিক স্বার্থকে’ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

Amyal TV
৩ মিনিট পড়ুন

শনিবার নয়াদিল্লিতে ‘ইকোনমিক টাইমস ওয়ার্ল্ড লিডার্স ফোরামে’ বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বলেন, কোনো সম্পর্ক সফল করতে হলে উভয় পক্ষকেই একে অপরের স্বার্থ বুঝতে হবে এবং সমঝোতার জায়গা খুঁজে বের করতে হবে।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে প্রশ্ন করা হলেও এসব বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি জয়শঙ্কর। তবে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের নীতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি পারস্পরিক স্বার্থের ওপর জোর দেন।

জয়শঙ্করের মতে, একটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক তখনই কার্যকর হয়, যখন উভয় পক্ষই সেখান থেকে কিছুটা হলেও লাভবান হয়। এক পক্ষ শুধু নিজের স্বার্থ অনুযায়ী অন্য পক্ষের কাছ থেকে প্রত্যাশা করতে পারে না। বরং দুই দেশের স্বার্থের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করাই সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার মূল ভিত্তি।

তার এই বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন শেখ হাসিনাকে ঘিরে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে। বাংলাদেশ শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠাতে ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়ে আসছে। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে বাংলাদেশে বিচারও হয়েছে। বিষয়টি দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা চললেও সফরের চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারিত হয়নি।

এর আগে ভারতের কয়েকজন সাবেক কূটনীতিক মন্তব্য করেছিলেন, তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধ থাকায় সফরের সময়সূচি এখনো স্পষ্ট নয়।

এমন পরিস্থিতিতে জয়শঙ্করের বক্তব্যকে বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নয়াদিল্লির বৃহত্তর কূটনৈতিক অবস্থানের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অর্থাৎ একতরফা অবস্থানের বদলে দুই দেশের স্বার্থের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত।

বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলায় ‘ডি-রিস্কিং’

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের পাশাপাশি বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে সংঘাত, প্রতিযোগিতা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে ঝুঁকি কমানো বা ‘ডি-রিস্কিং’ গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হতে পারে।

কোনো একটি দেশ বা উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না থেকে বিভিন্ন দেশ ও উৎসের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার পরামর্শ দেন তিনি। এতে কোনো একটি উৎসে সংকট তৈরি হলে সরবরাহ ব্যবস্থা ও অর্থনীতিতে তার প্রভাব কমানো সম্ভব হবে।

জ্বালানি, সার ও আন্তর্জাতিক নৌপথের বাজারে সাম্প্রতিক অস্থিরতার প্রসঙ্গ তুলে জয়শঙ্কর বলেন, শুধু কম খরচের বিষয়টি বিবেচনা করলেই হবে না; ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ঝুঁকিও মাথায় রাখতে হবে।

চীনের সঙ্গেও অর্থনৈতিক সম্পর্কের বার্তা

চীনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সীমান্ত পরিস্থিতির কারণে দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তাঁর মতে, ভারত-চীন সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা গুরুত্বপূর্ণ। পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতার সুযোগও রয়েছে।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো চীনের সঙ্গেও ভারতের ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকবে উল্লেখ করে জয়শঙ্কর একই সঙ্গে ভারতের নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানো এবং আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।

চট্টগ্রাম বিভাগে তিন দিনের সফরে যাচ্ছেন পেশাজীবী দলের মুখপাত্র- নাফিজ মাহবুব

সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও পেশাজীবীদের সম্পৃক্ততা...

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরতে পরতে হাসনাত-সারজিসের গাদ্দারি খুঁজে পাওয়া যাবে: রাশেদ খাঁন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায়ে হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের ‘গাদ্দারি’...