জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও এক মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়। দণ্ডাদেশের পর বায়েজিদ হোসেন শাহেদকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত মো. বায়েজিদ হোসেন শাহেদ ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার হাবিবুর রহমানের ছেলে। বর্তমানে তিনি ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকায় বসবাস করেন। তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির ফরিদপুর জেলা কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে বিষয়টি জানাজানি হয়। এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট মোল্লাবাড়ি সড়ক এলাকায় শাহেদের মালিকানাধীন ‘মেসার্স জনতা ল্যাবরেটরিজ’ নামের একটি কারখানায় অভিযান চালায় জেলা প্রশাসন।
ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইনসানা তানজীন ইকোর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, কারখানাটির ড্রাগ লাইসেন্স ও ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে শেষ হয়ে যায়। এরপরও লাইসেন্স নবায়ন না করে অনুমোদন ছাড়াই কারখানাটি পরিচালনা করে আসছিলেন বায়েজিদ হোসেন শাহেদ।
অভিযানের সময় কারখানাটিতে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ তৈরি ও সংরক্ষণের প্রমাণ পাওয়া যায়। এর মধ্যে শিশুদের জন্য বেবি জেল, প্রাপ্তবয়স্কদের বিভিন্ন ধরনের যৌন উত্তেজক ওষুধ এবং বিভিন্ন ধরনের আয়ুর্বেদিক ওষুধও ছিল বলে জানানো হয়েছে।
অভিযান চলাকালে কারখানা থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ওষুধ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ওষুধ তৈরির অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় লাইসেন্স সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়মও ধরা পড়ে।
এ বিষয়ে এনসিপির ফরিদপুর জেলা শাখার সদস্য সচিব সাইফ হাসান খান বলেন, ‘কোনো ধরনের অন্যায়ের সঙ্গে আমাদের কোনো আপস নেই। আমাদের দলের কেউ অন্যায় করে থাকলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নিয়ে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের জানানো হবে।
এদিকে অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ইনসানা তানজীন ইকো।
তিনি বলেন, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে কারখানাটির ড্রাগ লাইসেন্স ও ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এরপরও লাইসেন্স নবায়ন না করে অনুমোদন ছাড়াই কারখানাটি পরিচালনা করা হচ্ছিল।
কারখানাটিতে ওষুধ তৈরির উপযুক্ত পরিবেশ ছিল না এবং প্রয়োজনীয় ক্যামিস্টও ছিলেন না বলে জানান তিনি। এ ছাড়া সেখানে আরও বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেছে।
ইনসানা তানজীন ইকো বলেন, অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে কারখানা থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারখানার মালিক বায়েজিদ হোসেন শাহেদকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
