বুধবার (৭ অক্টোবর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ একটি আইনি বিষয়। তাই সংশ্লিষ্ট আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
একই সঙ্গে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ‘ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী’ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। সেই লক্ষ্যেই দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীও শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টিকে কঠোরভাবে আইনি ও কাঠামোগত প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করেন।
রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের ‘পাওয়ার অ্যান্ড প্রুডেন্স’ শীর্ষক এক সেশনে তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন।
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হাইকমিশনার বলেন, ‘একটি সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে এবং বিষয়টি অত্যন্ত কাঠামোগত। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে বিচার বিভাগ ও আদালত সরাসরি যুক্ত। ফলে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া কারও পক্ষেই সম্ভব নয়।’
২০২৪ সালের আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে শেখ হাসিনার ভারতে আশ্রয় নেওয়ার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, ভারত সরকার তাঁকে ভারতে নিয়ে যায়নি এবং তাঁর আগমনের জন্যও দিল্লি আগে থেকে প্রস্তুত ছিল না।
হাইকমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতীয় বিমানবাহিনী বা সেনাবাহিনী শেখ হাসিনাকে ভারতে নিয়ে আসেনি। বাংলাদেশে সৃষ্ট চরম উদ্বেগজনক ও মর্মান্তিক পরিস্থিতির মধ্যেই তাঁকে বহনকারী সামরিক উড়োজাহাজ ভারতে পৌঁছায়। সে সময় তিনি কাগজে-কলমে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ওই ফ্লাইটকে অবতরণের অনুমতি দেওয়া ছাড়া ভারতের হাতে কার্যত খুব বেশি বিকল্প ছিল না বলেও জানান তিনি।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, নিকট প্রতিবেশী হিসেবে ওই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া ভারতের দায়িত্ব ছিল।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানানো হয়েছে। তবে নয়াদিল্লি বারবারই জানিয়েছে, বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি ও সংশ্লিষ্ট বিচারিক প্রক্রিয়ার আওতায় অনুরোধটি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। তাঁর মতে, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কেবল তাৎক্ষণিক স্বার্থ বা লেনদেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং দীর্ঘদিনের গভীর সাংস্কৃতিক ও মনস্তাত্ত্বিক বন্ধনের ওপর এ সম্পর্ক দাঁড়িয়ে আছে।
তিনি বলেন, একজন দায়িত্বশীল প্রতিবেশী সংকটের সময় সবসময় পাশে দাঁড়ায়। বাংলাদেশ একটি সার্বভৌম দেশ হিসেবে নিজস্ব নিরাপত্তা মূল্যায়নে সম্পূর্ণ সক্ষম বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আগামী দিনে পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতেই বাংলাদেশ-ভারত অংশীদারত্ব আরও এগিয়ে যাবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন দীনেশ ত্রিবেদী।
