গত বুধবার নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহধসের পর ভোটেকোশি ও ত্রিশূলী নদী দিয়ে ভয়াবহ ঢল নেমে আসে। এতে একের পর এক জনপদ প্লাবিত হয়। এখন পর্যন্ত ৬২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ১ হাজার ৯২৪ জন, যাদের মধ্যে অন্তত ৫৪০ জন বিদেশি।
পরদিন বৃহস্পতিবার দুর্যোগকবলিত রাসুয়া জেলা থেকে জোয়ালকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তার একটি পা ভেঙে গেছে, মুখেও রয়েছে আঘাতের চিহ্ন। পরে হেলিকপ্টারে তাকে কাঠমান্ডুর হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এদিকে ছেলের কোনো খোঁজ না পেয়ে তিন দিন ধরে এক আশ্রয়কেন্দ্র থেকে আরেক আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছিলেন জোয়ালের মা মাট্টি মায়া তামাং। তিনি ধরে নিয়েছিলেন, ভয়াবহ ঢলে হয়তো তাঁর দুই ছেলেই মারা গেছে।
অবশেষে এক সাংবাদিকের মাধ্যমে জোয়াল জীবিত থাকার খবর পান তিনি। নুয়াকোটের একটি হাসপাতালে জোয়ালের সঙ্গে দেখা হয়েছিল রয়টার্সের সাংবাদিক শাহানা বজ্রাচার্যের। পরিবারের সন্ধান পাওয়ার আশায় তিনি জোয়ালের ভিডিও ধারণ করে নিজের ফোন নম্বর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে রেখে যান।
পরে সেই নম্বরেই ফোন করেন জোয়ালের মা। ছেলেকে জীবিত পাওয়ার খবর শুনে প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না তিনি।
জোয়াল জানায়, ঢলের সময় স্কুলের চারপাশ হঠাৎ অন্ধকার হয়ে যায়। এরপর এক বন্ধুর সঙ্গে দৌড়ে পাহাড়ি জঙ্গলে গিয়ে গাছে উঠে পড়ে সে। এভাবেই ভয়াবহ স্রোত থেকে নিজেকে রক্ষা করে শিশুটি।
জোয়ালের পরিবার জানায়, তাদের স্কুল ভবনও ঢলের স্রোতে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। চারদিকে এখন শুধু পানি, পাথর আর কাদা।
দুর্যোগের পর যান চলাচল বন্ধ থাকায় জোয়ালের পরিবারের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করে দেন সাংবাদিক শাহানা। রাজধানীর হাসপাতালে ছেলের কাছে পৌঁছান মা। দীর্ঘ তিন দিন পর মা-ছেলের এই পুনর্মিলনে স্বস্তি ফিরে আসে পরিবারটিতে।
জোয়ালের বাবা জাপানে নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। ছেলের দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তিনিও দেশে ফেরার পথে রয়েছেন।
ভয়াবহ এই দুর্যোগে সবকিছু হারানোর আশঙ্কার মধ্যেও সন্তানকে ফিরে পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন মাট্টি মায়া। তিনি বলেন, জোয়াল সবসময়ই ভীষণ দুষ্টু। জীবনে এই প্রথম নয়, এর আগেও হাড় ভাঙার ঘটনা ঘটেছে তার।
