পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে টঙ্গী বাজার এলাকায় জড়ো হন বস্তিবাসীরা। পরে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে স্টেশন রোড প্রদক্ষিণ করে বিআরটি ফ্লাইওভার ব্রিজে ওঠে। সেখানে মহাসড়কের একটি অংশে অবস্থান নিয়ে আংশিক অবরোধ সৃষ্টি করেন তারা।
এ সময় ‘ভাত দে, কাপড় দে, বাসস্থান দে, পুনর্বাসন দে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, গুটিকয়েক মাদক ব্যবসায়ীর কর্মকাণ্ডের দায় সাধারণ বস্তিবাসীদের ওপর চাপিয়ে তাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। কোনো ধরনের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে এই উচ্ছেদ মেনে নেওয়া সম্ভব নয় বলেও দাবি করেন তারা।
আন্দোলনকারীরা বলেন, স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত তাদের বর্তমান স্থানে বসবাসের সুযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি প্রকৃত মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন তারা।
বস্তিবাসীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে হাজী মাজার বস্তিতে বসবাসকারী অধিকাংশ মানুষই নিম্ন আয়ের। তাদের মধ্যে দিনমজুর, রিকশা-ভ্যানচালক, পোশাকশ্রমিক এবং বিভিন্ন শিল্পকারখানার শ্রমিক রয়েছেন। হঠাৎ বসতঘর ভেঙে দেওয়ায় পরিবার নিয়ে কোথায় যাবেন, তা নিয়ে তারা অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
তবে বিক্ষোভকারীদের এসব অভিযোগের পক্ষে তাৎক্ষণিক কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, হাজী মাজার বস্তিকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে মাদক কেনাবেচাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে সেখান থেকে মাদক উদ্ধারের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।
বিক্ষোভের কারণে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিআরটি ফ্লাইওভারে যান চলাচল আংশিকভাবে ব্যাহত হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। তারা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসেন বলেন, ‘আমরা বস্তিবাসীদের বুঝিয়ে রাস্তা থেকে সরানোর চেষ্টা করছি।’
তবে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বস্তিবাসীরা।
