শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) প্রতিরক্ষামন্ত্রী জাস্টিনিয়ানো জানান, স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ২টার দিকে সামরিকঘাঁটির একটি এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটে। ওই এলাকায় আতশবাজি সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছিল। সেখান থেকেই বিস্ফোরণের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, বিস্ফোরণে আহত ৫৮ জনের মধ্যে ৫২ জনই বেসামরিক নাগরিক। আহতদের বাকি ছয়জন সামরিক সদস্য।
তবে ভিয়াচার স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক রিটা নেব্রাস্কা জানিয়েছেন, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা প্রাথমিকভাবে ধারণা করা ১০ জনের চেয়ে বেশি হতে পারে। তার মতে, নিহতের সংখ্যা ১০ থেকে ১৫ জনের মধ্যে হতে পারে।
বিস্ফোরণের পর সামরিকঘাঁটির আশপাশের এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে দেখা দেয় তীব্র উৎকণ্ঠা। মোবাইল ফোনে ধারণ করা বিভিন্ন ভিডিওতে বিস্ফোরণের মুহূর্ত এবং প্রাণ বাঁচাতে মানুষের ছোটাছুটির দৃশ্য দেখা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে সামরিক কমপ্লেক্সের ভেতর থেকে ঘন কালো ধোঁয়া উঠতেও দেখা যায়। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, এর শব্দ ও কম্পন আশপাশের এলাকাতেও অনুভূত হয়।
ঘটনার পরপরই সামরিক কমপ্লেক্সে অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসক দল ও পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠায়। একই সঙ্গে আহতদের পরিবারের সদস্যদেরও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের তীব্রতায় সামরিকঘাঁটির আশপাশের কয়েক ডজন বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিস্ফোরণের কারণে অনেক বাড়ির জানালা ও বিভিন্ন স্থাপনার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে ভয়াবহ এই বিস্ফোরণের কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিকভাবে আতশবাজি সংরক্ষণের এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটলেও ঠিক কী কারণে সেখানে আগুন বা বিস্ফোরণের সূত্রপাত হলো, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভিয়াচার স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক রিটা নেব্রাস্কা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে এখনো কিছু বিস্ফোরক পড়ে রয়েছে বলে দমকলকর্মীরা সতর্ক করেছেন। ফলে সেখানে নতুন করে বিস্ফোরণের ঝুঁকি রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘটনাস্থল থেকে অন্তত ১৫০ মিটার দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে উদ্ধার ও তদন্ত কার্যক্রম চলাকালে সাধারণ মানুষকে সামরিকঘাঁটির আশপাশে না যাওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ভয়াবহ এই বিস্ফোরণের ঘটনায় ভিয়াচা শহরজুড়ে শোক ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পরবর্তী তথ্যের দিকে নজর রয়েছে।
