Amyal TV
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১৩ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১৩ কার্তিক ১৪৩৩

জোর করে বিষ খাইয়ে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ, স্বামী-শ্বশুরের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে মুসলিমা খানম নামের এক গৃহবধূকে মারধরের পর জোর করে মুখে বিষ ঢেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী ও শ্বশুরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মুসলিমার স্বামী কুরবান মোল্লা ও শ্বশুর নুরুজ্জামান মোল্লাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

Amyal TV
২ মিনিট পড়ুন

২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের বড়ফা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই রাতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মুসলিমার মৃত্যু হয়। পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে তাঁর লাশ দাফন করা হয়।

মুসলিমা হত্যার বিচারের দাবিতে আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জালালাবাদ ইউনিয়নের চন্দ্রদিঘলিয়া-মধুমতি সড়কের বড়ফা নতুন বাজার এলাকায় মানববন্ধন হয়েছে। এতে শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অংশ নেন। মানববন্ধনে মুসলিমার মা মর্জিনা বেগম, ভাই জুয়েল মোল্লা, প্রতিবেশী কামরুল ইসলাম মোল্লা, ইকরাম সরদারসহ কয়েকজন বক্তব্য দেন।

মুসলিমা বড়ফা গ্রামের তোবারক মোল্লার মেয়ে। ২০১৪ সালে একই গ্রামের নুরুজ্জামান মোল্লার ছেলে কুরবান মোল্লার সঙ্গে পারিবারিকভাবে তাঁর বিয়ে হয়।

মুসলিমার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য কুরবান তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন। বিভিন্ন সময়ে তাঁর পরিবার কুরবানকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা দিয়েছে। ২০২২ সালে মুসলিমার মা মর্জিনা বেগম যৌতুক নিরোধ আইনে কুরবানের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন।

পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সালিসের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করে মুসলিমাকে স্বামীর বাড়িতে পাঠানো হয়। এর কিছুদিন পর আবারও টাকার জন্য তাঁকে নির্যাতন করা শুরু হয় বলে পরিবারের দাবি।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ২৭ আগস্ট কুরবান ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা মুসলিমাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে মুসলিমা মাটিতে লুটিয়ে পড়লে কুরবান ও তাঁর বাবা নুরুজ্জামান জোর করে তাঁর মুখে বিষ ঢেলে দেন।

পরে মুসলিমা অচেতন হয়ে পড়লে কুরবান ও নুরুজ্জামান একটি ভ্যানে করে মুসলিমাকে তাঁর বাবার বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে বাড়ির উঠানে তাঁকে ফেলে রেখে পালানোর চেষ্টা করেন তাঁরা। তাঁদের দৌড়াতে দেখে স্থানীয় রিকু মোল্লা, কিচমত মোল্লাসহ ১৫–২০ জন তাঁদের গতি রোধ করেন। কেন তাঁরা পালাচ্ছেন, স্থানীয় লোকজন জানতে চাইলে তাঁরা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। পরে মুসলিমাকে জোর করে বিষ খাওয়ানোর কথা তাঁরা স্বীকার করেন বলে পরিবারের লোকজনের দাবি।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কুরবান ও নুরুজ্জামানকে থানায় নিয়ে যায়। এদিকে অচেতন মুসলিমাকে প্রথমে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ওই রাতেই তাঁর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় মুসলিমার মা মর্জিনা বেগম বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানায় কুরবান, নুরুজ্জামানসহ চারজনকে আসামি করে মামলা করেন।

গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় কুরবান ও তাঁর বাবা নুরুজ্জামান মোল্লাকে গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম বিভাগে তিন দিনের সফরে যাচ্ছেন পেশাজীবী দলের মুখপাত্র- নাফিজ মাহবুব

সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও পেশাজীবীদের সম্পৃক্ততা...

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরতে পরতে হাসনাত-সারজিসের গাদ্দারি খুঁজে পাওয়া যাবে: রাশেদ খাঁন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায়ে হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের ‘গাদ্দারি’...