Amyal TV
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
১১ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
১১ কার্তিক ১৪৩৩

রাশিয়ার জ্বালানি-প্রতিরক্ষা খাতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা বিল পাস যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে

রাশিয়ার জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতসহ দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তা, ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পথ তৈরি করে একটি বিল পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ২৬২-১৫৯ ভোটে বিলটি পাস হয়। এর আগে গত আগস্টে সিনেটে ৮৬-১১ ভোটে বিলটি অনুমোদিত হয়েছিল। এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের জন্য বিলটি হোয়াইট হাউসে পাঠানো হয়েছে।

Amyal TV
৩ মিনিট পড়ুন

বিলটির নাম ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’। এতে রাশিয়ার তেল-গ্যাস খাত, প্রতিরক্ষা শিল্প, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রুশ তেল পরিবহনে ব্যবহৃত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ নামে পরিচিত ট্যাংকার ও সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।

বিলটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেওয়া। ফলে রাশিয়ার জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে চীন ও ভারতের মতো বড় ক্রেতা দেশগুলোও সম্ভাব্যভাবে এই শুল্কের আওতায় পড়তে পারে। তবে কোনো দেশের ওপর এই শুল্ক আরোপ করা হবে কি না, সেটি প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

বিলে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল বা গ্যাসের সবচেয়ে বড় পাঁচ ক্রেতার পাশাপাশি রুশ জ্বালানি রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তাকারী দেশ বা পক্ষগুলোর বিরুদ্ধেও শুল্ক আরোপের সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমের ব্যবস্থাও রয়েছে। বিশেষ করে রাশিয়ার প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া দেশগুলো নির্দিষ্ট শর্তে এই বিধানের বাইরে থাকতে পারে।

এর আগে গত আগস্টে মার্কিন সিনেটে ৮৬-১১ ভোটে বিলটি পাস হয়েছিল। দীর্ঘ আলোচনার পর প্রতিনিধি পরিষদেও এটি অনুমোদন পাওয়ায় এখন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে। ট্রাম্প ইতোমধ্যে বিলটিতে স্বাক্ষর করার কথা জানিয়েছেন।

কংগ্রেসে অবশ্য বিলটি নিয়ে পুরোপুরি ঐকমত্য ছিল না। অনেক ডেমোক্র্যাট সদস্য রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের পক্ষে থাকলেও প্রেসিডেন্টকে এত বিস্তৃত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানান। তাদের আশঙ্কা, এই বিধান ভবিষ্যতে নির্বাহী বিভাগের বাণিজ্যনীতি নির্ধারণের ক্ষমতা আরও বাড়াতে পারে। শেষ পর্যন্ত প্রতিনিধি পরিষদে ৫৮ জন ডেমোক্র্যাট সদস্য বিলটির পক্ষে ভোট দেন। বিপরীতে সাতজন রিপাবলিকান সদস্য বিলটির বিপক্ষে ভোট দেন।

বিলে রাশিয়ার সামরিক কর্মকাণ্ডে সহায়তাকারী বিদেশি ব্যক্তি, কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের জ্বালানি ও অস্ত্র খাতের ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়ানোর বিধানও যুক্ত করা হয়েছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন। বিলটির সমর্থকদের বক্তব্য, রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর মাধ্যমে দেশটির যুদ্ধ পরিচালনার অর্থের জোগান কমানো এবং মস্কোর ওপর আলোচনায় যাওয়ার চাপ বাড়ানোই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

বিলটির প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। জুলাইয়ে তার আকস্মিক মৃত্যুর পর তার সম্মানে বিলটির নামকরণ করা হয়। ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে তিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের এই উদ্যোগ নিয়ে কাজ করে আসছিলেন। তার মৃত্যুর পরও বিলটি নিয়ে কংগ্রেসে আলোচনা ও সমর্থন অব্যাহত থাকে এবং শেষ পর্যন্ত এটি প্রতিনিধি পরিষদে পাস হয়ে প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠানো হয়।

রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানির বিষয়ে ভারতও নিজেদের জ্বালানি চাহিদা ও সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অবস্থান জানিয়েছে। ফলে নতুন মার্কিন আইন কার্যকর হলে রাশিয়ার জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর সম্ভাব্য শুল্কের প্রভাব ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ভারত ও চীন বর্তমানে রাশিয়ার জ্বালানির বড় ক্রেতা হওয়ায় বিলটির এই বিধান বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে।

এখন বিলটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে। স্বাক্ষরের পর আইনটি কার্যকর হলে রাশিয়ার জ্বালানি ও আর্থিক খাতের পাশাপাশি দেশটির সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখা কিছু দেশের ওপরও নতুন ধরনের অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।

চট্টগ্রাম বিভাগে তিন দিনের সফরে যাচ্ছেন পেশাজীবী দলের মুখপাত্র- নাফিজ মাহবুব

সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও পেশাজীবীদের সম্পৃক্ততা...

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরতে পরতে হাসনাত-সারজিসের গাদ্দারি খুঁজে পাওয়া যাবে: রাশেদ খাঁন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায়ে হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের ‘গাদ্দারি’...