শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাত ২টার দিকে ত্রিপুরা রাজ্যের লঙ্কামুড়া বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা সানমুড়া সীমান্ত এলাকার কাঁটাতারের পাশে পড়ে থাকা মরদেহটি উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেন।
নিহত শাকিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার আব্দুল্লাহপুর গ্রামের মালু মিয়ার ছেলে। পরিবারের সদস্যরা জানান, বুধবার গভীর রাতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ ছিল শাকিল। এরপর পরিবারের লোকজন আত্মীয়স্বজনসহ বিভিন্ন স্থানে তার খোঁজ করেন। এমনকি মাইকিং করেও তার সন্ধান চাওয়া হয়। তবে কয়েক দিন ধরে খোঁজ করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
শাকিলের বাবা মালু মিয়া জানান, বুধবার রাতে তার মেয়ের বিয়ের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান ছিল। রাত সাড়ে ১২টার দিকে অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর শাকিল বাড়িতে ফিরে মায়ের সঙ্গে ঘুমাতে যায়। কিছুক্ষণ পর কোনো একসময় সে আবার ঘর থেকে বের হয়ে যায়। এরপর আর ঘরে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে শুরু করেন।
মালু মিয়া বলেন, ‘অনেক খোঁজাখুঁজি করেছি। মাইকিং করে প্রচার করেছি। কিন্তু কোথাও তার সন্ধান পাইনি। শনিবার সন্ধ্যায় বিজিবির মাধ্যমে খবর পেয়ে সীমান্তে গিয়ে ছেলের মরদেহ দেখতে পাই। পরে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কথা হয়। বিএসএফ মরদেহ নিয়ে গেছে। ছেলের লাশ কবে ফেরত পাব, জানি না।’
তিনি আরও জানান, শাকিল মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ ছিল। তবে কীভাবে সে বাড়ি থেকে সীমান্ত এলাকায় পৌঁছেছে কিংবা কী কারণে সেখানে গিয়েছিল, সে বিষয়ে পরিবারের সদস্যরা কিছুই জানেন না।
বিজিবি ফকিরমুড়া ক্যাম্পের কমান্ডার নিরাময় চাকমা জানান, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের আখাউড়া-ত্রিপুরা অংশের ২০২২-৯এস সীমান্ত পিলারের কাছে সানমুড়া এলাকার কাঁটাতারের বেড়ার পাশে এক কিশোরের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে বিষয়টি বিএসএফ সদস্যদের নজরে আসে।
পরে শনিবার সন্ধ্যার পর ভারতীয় বিএসএফের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারে ফকিরমুড়া বিজিবি ক্যাম্প। খবর পেয়ে বিজিবির সদস্যরা ঘটনাস্থলের দিকে গিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নেন। একই সময় খবর পেয়ে আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
ঘটনাটি জানার পর বিজিবি ও বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করেন এবং মরদেহ শনাক্ত ও উদ্ধারের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করেন। তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত ও উদ্ধারের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ করতে গভীর রাত হয়ে যায়।
এরপর দিনগত রাত ২টার দিকে ত্রিপুরা রাজ্যের লঙ্কামুড়া বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা সীমান্তের কাঁটাতারের পাশে পড়ে থাকা মরদেহটি তাদের হেফাজতে নেন। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।
এ বিষয়ে ২৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাব্বার আহমেদ বলেন, কিশোরটি কীভাবে সীমান্ত এলাকায় গেল এবং কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সীমান্তের কাঁটাতারের পাশে মরদেহ পাওয়ায় বিএসএফ সেটি নিয়ে গেছে।
তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর রোববার বিকেলে মরদেহ বাংলাদেশে ফেরত দেওয়ার কথা রয়েছে। মরদেহ ফেরত পাওয়ার পর পরিবারের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
