Amyal TV
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক ১৪৩৩

২৫ হাজারের বেশি অভিবাসীকে তৃতীয় দেশে পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষকে এমন সব তৃতীয় দেশে ডিপোর্ট করেছে, যেসব দেশের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক বা পূর্ব যোগাযোগ নেই। সম্প্রতি পরিচালিত এক অনুসন্ধানে এ তথ্য উঠে এসেছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে অনুসন্ধানের এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

Amyal TV
৩ মিনিট পড়ুন

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র নিজ দেশের পরিবর্তে অন্য দেশে তৃতীয় দেশের নাগরিকদের পাঠানোর উদ্দেশ্যে ৩৫টি দেশের সঙ্গে চুক্তি করেছে। এসব চুক্তির বিস্তারিত তথ্যের বড় একটি অংশ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

অভিবাসী অধিকারবিষয়ক বিভিন্ন সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে অনুসন্ধানকারীরা জানিয়েছেন, গত ৩১ আগস্ট পর্যন্ত অন্তত ২৫ হাজার ৪৪৭ জন মানুষকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এমন ২৮টি দেশে পাঠানো হয়েছে। এসব ব্যক্তির অনেকেরই যে দেশগুলোতে পাঠানো হয়েছে, সেসব দেশের সঙ্গে কোনো পূর্ব সম্পর্ক বা যোগসূত্র ছিল না।

এই অনুসন্ধান পরিচালনা করে ১৫টি দেশের ২৬টি সংবাদমাধ্যমের ৭২ জন সাংবাদিকের একটি কনসোর্টিয়াম। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে শতাধিক সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। এতে ডিপোর্ট হওয়া ব্যক্তি, সরকারি কর্মকর্তা, আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যও সংগ্রহ করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, তৃতীয় দেশগুলোর সঙ্গে এসব চুক্তি সম্পাদন ও কার্যকর করতে যুক্তরাষ্ট্র অন্তত ৪১০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের হাতে পাওয়া মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অভ্যন্তরীণ নথি অনুযায়ী, এই অর্থের মধ্যে চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর জন্য ৮১ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর জন্য ১৭৮ মিলিয়ন ডলারের বেশি এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের জন্য ১২৩ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এসব চুক্তির বিষয়ে আলোচনার প্রধান দায়িত্ব পালন করছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘অফিস অব রিমাইগ্রেশন’ নামে একটি বিভাগ। ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিভাগটি তৃতীয় দেশগুলোর সঙ্গে অভিবাসীদের গ্রহণের বিষয়ে চুক্তি ও সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

অনুসন্ধানের বিষয়ে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যেসব অভিবাসীর নিজ দেশ তাদের ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে অথবা যেসব অভিবাসী নিজ দেশে ফিরে যেতে চাননি, তাদেরই তৃতীয় দেশে পাঠানো হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, তৃতীয় দেশে পাঠানোর এই ব্যবস্থা মূলত এমন অভিবাসীদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে, যাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হচ্ছিল না।

তবে এই প্রক্রিয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই আইনি চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। অভিবাসীদের পর্যাপ্ত নোটিশ না দেওয়া এবং তাদের ডিপোর্টেশনের গন্তব্য নিয়ে আপত্তি জানানোর বা আইনি চ্যালেঞ্জ করার কার্যকর সুযোগ না দেওয়ার অভিযোগে বিষয়টি আদালতে গড়ায়।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট সার্কিট কোর্ট অব আপিল তৃতীয় দেশে দ্রুত ডিপোর্টেশনের নীতির বিরুদ্ধে রায় দেয়। আদালত জানায়, কোনো অভিবাসীকে এমন তৃতীয় দেশে পাঠানোর আগে তাকে পর্যাপ্ত নোটিশ এবং সেই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করার কার্যকর সুযোগ দিতে হবে।

আদালতের সিদ্ধান্তে বলা হয়, কোনো ব্যক্তিকে কোন দেশে পাঠানো হবে তা আগে না জানিয়ে তাকে সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানানোর বাস্তব সুযোগ দেওয়া সম্ভব নয়। ফলে তৃতীয় দেশে ডিপোর্টেশনের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এর আগে মার্কিন প্রশাসনের নীতির আওতায় অনেক অভিবাসীকে তাদের নিজ দেশের পরিবর্তে মেক্সিকো, আফ্রিকা ও অন্যান্য অঞ্চলের তৃতীয় দেশে পাঠানো হয়েছে। বিভিন্ন সরকারি নথি ও অনুসন্ধানভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ায় ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষ তৃতীয় দেশে ডিপোর্টেশনের শিকার হয়েছেন।

এদিকে ১৮ সেপ্টেম্বরের আদালতের রায়ের পর তৃতীয় দেশে ডিপোর্টেশনের ক্ষেত্রে মার্কিন সরকারের নীতিতে নতুন করে আইনি অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে তৃতীয় দেশে ডিপোর্টেশনের এই ব্যবস্থা আগামী দিনে কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

চট্টগ্রাম বিভাগে তিন দিনের সফরে যাচ্ছেন পেশাজীবী দলের মুখপাত্র- নাফিজ মাহবুব

সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও পেশাজীবীদের সম্পৃক্ততা...

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরতে পরতে হাসনাত-সারজিসের গাদ্দারি খুঁজে পাওয়া যাবে: রাশেদ খাঁন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায়ে হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের ‘গাদ্দারি’...