অভিযোগকারী শিক্ষার্থী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
জানা যায়, মোবাইল ফোন ব্যবহারের জন্য বাবা-মায়ের কাছে আবদার করেছিল মিনার (ছদ্মনাম)। তবে বাবা-মা তাকে মোবাইল ফোন দিতে রাজি না হওয়ায় পরিবারের সঙ্গে তার মনোমালিন্য হয়। একপর্যায়ে বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ নিয়ে রাতের বেলায় একাই হাজীগঞ্জ থানায় চলে আসে সে।
রাতে থানায় ওই শিক্ষার্থীকে দেখে বিষয়টি জানতে চান দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা। পরে তার সঙ্গে কথা বলেন পুলিশ পরিদর্শক জহির হোসেন। তিনি শিশুটির কাছ থেকে বিষয়টি বিস্তারিত শোনেন এবং তার সঙ্গে শান্তভাবে কথা বলে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেন।
পুলিশ পরিদর্শক জহির হোসেন বলেন, ‘শিশুটি অভিমান করে বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে থানায় এসেছিল। আমরা তার সঙ্গে শান্তভাবে কথা বলেছি এবং বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করেছি। পরে তার বাবা-মাকেও ডেকে এনে সন্তানের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলি।’
তিনি বলেন, ‘তাদের বুঝিয়ে বলেছি, পারিবারিক বিষয়গুলো যেন ভালোবাসা ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধান করা হয়। পরে শিশুটিকে তার বাবা-মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।’
পুলিশ পরিদর্শক আরও বলেন, ‘ছোট একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে যেন শিশুর মনে কোনো ধরনের নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সে বিষয়েও তার বাবা-মাকে সতর্ক করা হয়েছে।’
পুলিশের সঙ্গে কথা বলার পর এবং পারিবারিকভাবে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলে ওই শিক্ষার্থীকে তার বাবা-মায়ের সঙ্গে বাড়িতে পাঠানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির অভিযোগ ও পারিবারিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে।
এদিকে, রাতে একা থানায় এসে বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর মাধ্যমে অনেকের নজরে এসেছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির সঙ্গে কথা বলে পারিবারিকভাবে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে এবং তাকে বাবা-মায়ের সঙ্গে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।
