Amyal TV
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১৩ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১৩ কার্তিক ১৪৩৩

কামারখালী বাজারে ডাস্টবিন ও শৌচাগারের অভাবে চরম ভোগান্তি

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের শত বছরের পুরোনো কামারখালী বাজারে এখনো গড়ে ওঠেনি কোনো গণশৌচাগার। ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্যও নেই নির্ধারিত ডাস্টবিন বা স্থান। পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের জন্য নেই পরিকল্পিত কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা। ফলে বাজারে আসা ক্রেতা-বিক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এ দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

Amyal TV
৩ মিনিট পড়ুন

এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী। তাঁদের অভিযোগ, শুধু কামারখালী বাজারই নয়, মধুখালী উপজেলার বেশ কয়েকটি বাজারেও একই ধরনের অব্যবস্থাপনা রয়েছে। ব্যবসায়ীরা দ্রুত বাজারে স্বাস্থ্যসম্মত গণশৌচাগার, ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য নির্ধারিত স্থান এবং পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

মধুখালী উপজেলায় একটি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়নে দৈনিক ও সাপ্তাহিক হাট মিলিয়ে অন্তত এক ডজন হাট-বাজার রয়েছে। এসব বাজারে প্রতিদিন হাজারো ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম ঘটে। তবে অধিকাংশ বাজারেই ময়লা-আবর্জনা ফেলার নির্ধারিত স্থান, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত গণশৌচাগারের ব্যবস্থা নেই। ফলে বাজারে আসা মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি পরিবেশও দূষিত হচ্ছে।

ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে পুরোনো ফেরিঘাট পর্যন্ত প্রায় এক বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে কামারখালী বাজারের বিস্তৃতি। এখানে প্রতিদিনের বাজারের পাশাপাশি শুক্র ও সোমবার নিয়মিত হাট বসে। কাঁচাবাজারের পাশাপাশি মধুখালী উপজেলার চারটি ইউনিয়ন এবং পাশের জেলার বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরাও ধান, পাট, চৈতালি ফসলসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য নিয়ে এ বাজারে আসেন।

বিশেষ করে হাটের দিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ব্যাপক ভিড় থাকে। অনেক ব্যবসায়ীকে দীর্ঘ সময় বাজারে অবস্থান করতে হলেও সেখানে গণশৌচাগারের ব্যবস্থা না থাকায় তাঁদের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে অনেক সময় দোকান বন্ধ করে বাড়িতে ফিরে যেতে হয় ব্যবসায়ীদের।

বাজারে কেনাকাটা করতে আসা লিপি পারভীন বলেন, ‘প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার প্রয়োজন হলে শিশুদের নিয়ে উপায়ান্তর না পেয়ে নিকটবর্তী একটি বাড়িতে যেতে হয়েছে। বহু বছরের পুরোনো একটি বাজার এভাবে চলতে পারে না।’

কামারখালী বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম মন্ডল বলেন, ‘পুরোনো এই বাজারটির রেজিস্ট্রেশন হয়নি। আমরা এ বিষয়ে কাজ করছি। গণশৌচাগার, পয়োনিষ্কাশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা খুবই জরুরি। তবে এ ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা রয়েছে।’

বাজার বণিক সমিতির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী মতিউল ইসলাম মুরাদ বলেন, ‘স্বাস্থ্যসম্মত ও আধুনিক একটি টয়লেট আছে। কিন্তু সুইপার না থাকায় সেটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা যাচ্ছে না। বাজারে কোনো ঝাড়ুদারও নেই। ফলে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব হচ্ছে না।’

ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মধুখালী থেকে মাগুরা পর্যন্ত রেলপথের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা সম্ভব হচ্ছে না।’

কামারখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাকিব হোসেন চৌধুরী ইরান জানান, নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে। তবে সুইপার না থাকায় সেগুলো এখনো সবার জন্য উন্মুক্ত করা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, ‘বাজারের ভেতর দিয়ে রেলপথ যাওয়ার কারণে এবং মধুমতী নদীর ওপর রেলসেতু নির্মাণাধীন থাকায় মালামাল পরিবহনের প্রয়োজন হয়। বাজারে ড্রেন রয়েছে, তবে মাটিতে ভরে যায়। কয়েকবার পরিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই আবার ভরে যায়।’

মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান বলেন, ‘কামারখালী বাজার ব্যবস্থাপনার বিষয়ে বণিক সমিতি ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি উপজেলার অন্যান্য বাজারের বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হবে।’

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একসময় বড় বড় নৌযান কামারখালী বাজারসংলগ্ন মধুমতী ও গড়াই নদীর ঘাটে ভিড়ত। এখানে ছিল বড় ধরনের একটি ফেরিঘাট। পাটের বড় বাজার হিসেবে পরিচিত হওয়ায় বিভিন্ন জুট মিলের ক্রয়কেন্দ্রও ছিল এ বাজারে। মধুমতী নদীর তীরে অবস্থিত হওয়ায় নৌপথে পণ্য পরিবহন ছিল সহজ ও সাশ্রয়ী।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ব্যস্ততা অনেকটাই কমে গেলেও শত বছরের পুরোনো কামারখালী বাজারের অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো এখনো রয়ে গেছে। গণশৌচাগার, ময়লা-আবর্জনা ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে প্রতিদিনই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বাজারের ব্যবসায়ী, ক্রেতা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের। দীর্ঘদিনের এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়

চট্টগ্রাম বিভাগে তিন দিনের সফরে যাচ্ছেন পেশাজীবী দলের মুখপাত্র- নাফিজ মাহবুব

সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও পেশাজীবীদের সম্পৃক্ততা...

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরতে পরতে হাসনাত-সারজিসের গাদ্দারি খুঁজে পাওয়া যাবে: রাশেদ খাঁন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায়ে হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের ‘গাদ্দারি’...