ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে সিএনএনের সাংবাদিক কেটলান কলিন্স ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ কবে শেষ হবে, তা জানতে চান। প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প উল্টো তাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘দাঁড়াও, এখানে কী করো তুমি?’ এরপর সাংবাদিকের উপস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন না করার কথাও বলেন তিনি।
ট্রাম্পের প্রশ্নের জবাবে কলিন্স জানান, জাতিসংঘ কর্তৃপক্ষ তাকে এবং সিএনএনকে ৮১তম সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের বিতর্কের সংবাদ সংগ্রহের অনুমতি দিয়েছে। অর্থাৎ জাতিসংঘের নির্ধারিত নিয়ম মেনেই তিনি সেখানে সংবাদ কাভার করছিলেন বলে জানান এই সাংবাদিক।
এর আগে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে কেটলান কলিন্সকে ‘তৃতীয় শ্রেণির প্রতিবেদক’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। একই সঙ্গে জাতিসংঘের সংবাদকক্ষে সাংবাদিকেরা তার উপস্থিতি নিয়ে কেন সমালোচনা করছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
পরে দেওয়া আরেকটি পোস্টে ট্রাম্প সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে তাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়ে ‘আসক্ত’ থাকার অভিযোগ করেন। একই পোস্টে সাংবাদিকদের উদ্দেশে কঠোর ও অবমাননাকর ভাষায় মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সিএনএনসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের সম্পর্ক নিয়ে এর আগেও বিরোধ দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাওয়ের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউস কমপ্লেক্সে কাজ করা এবং ব্রিফিংয়ে অংশ নেওয়ার অনুমতি বাতিল করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলো আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রশ্নে বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে ওয়াশিংটনে আইনি লড়াই চলছে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে ট্রাম্প ও কেটলান কলিন্সের এই বাকবিতণ্ডার ঘটনা নতুন করে মার্কিন প্রশাসন ও সংবাদমাধ্যমের সম্পর্ক এবং সাংবাদিকদের কাজের পরিবেশ নিয়ে আলোচনা তৈরি করেছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
