Amyal TV
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১৩ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১৩ কার্তিক ১৪৩৩

৩ মাসেই শেষ বিদ্যুৎ-গ্যাস ভর্তুকির ৪৫ শতাংশ

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যুৎ ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস—এলএনজি—ভর্তুকির জন্য সরকার ৪২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে। তবে অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেই এর প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে। অর্থাৎ, মাত্র তিন মাসে মোট বরাদ্দের প্রায় ৪৫ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়ে গেছে।

Amyal TV
৩ মিনিট পড়ুন

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং জ্বালানির ঊর্ধ্বমুখী দামের কারণে সরকারের ভর্তুকি ব্যয়ে চাপ ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, অর্থ মন্ত্রণালয় সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) আগস্ট মাসের বিদ্যুৎ ভর্তুকি বাবদ ৪ হাজার ৯৫২ কোটি টাকা এবং সেপ্টেম্বর মাসের এলএনজি আমদানি ভর্তুকি হিসেবে আরও ৩ হাজার কোটি টাকা ছাড় করেছে। অর্থাৎ সর্বশেষ একবারে দুই খাতে মোট ৭ হাজার ৯৫২ কোটি টাকা ছাড় দেওয়া হয়েছে।

এই ৭ হাজার ৯৫২ কোটি টাকার ছাড় দুই খাতে মাসিক সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দের তুলনায় প্রায় ১২৭ শতাংশ বেশি। এর আগে জুলাই মাসে বিদ্যুৎ ভর্তুকি এবং জুলাই ও আগস্ট মাসের এলএনজি ভর্তুকি বাবদ ১১ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ ছাড় করা হয়েছিল।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, জাতীয় বাজেটে বিদ্যুৎ ভর্তুকির জন্য ৩৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সে হিসাবে প্রতি মাসে গড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা করে বরাদ্দ পাওয়ার কথা। তবে বিদ্যুৎ বিভাগ প্রতি মাসে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা করে বরাদ্দ চেয়ে আসছে।

অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দ্রুত কমে আসবে—এমন প্রত্যাশার ভিত্তিতে পুরো অর্থবছরে এলএনজি ভর্তুকির জন্য ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ায় এই হিসাব এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, চলতি অর্থবছরে এলএনজি খাতে ভর্তুকির পরিমাণ ৪০ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এরই মধ্যে অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেই এ খাতে ছাড়ের পরিমাণ ১০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

শুধু এলএনজি নয়, বিদ্যুৎ খাতেও ভর্তুকির পরিমাণ বাজেটের নির্ধারিত অঙ্ক ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে এ খাতে ভর্তুকির পরিমাণ ৫০ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। অথচ গত অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে সরকার ভর্তুকি দিয়েছিল ৪৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা।

এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও বাংলাদেশের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন এবং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি অনুযায়ী সরবরাহ না পাওয়ায় বাংলাদেশকে এলএনজি আমদানির জন্য অস্থির স্পট মার্কেটের ওপর আগের তুলনায় বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে।

আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে কাতার চুক্তিগত দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রে ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ প্রয়োগ করায় দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি সরবরাহ ব্যবস্থায়ও বিঘ্ন ঘটে। ফলে প্রয়োজন মেটাতে বাংলাদেশকে আবারও স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি সংগ্রহ করতে হয়েছে।

চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনতে বাংলাদেশকে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট—এমএমবিটিইউ—প্রায় ৩০ ডলার দিতে হয়েছে। অথচ যুদ্ধ শুরুর আগে একই পরিমাণ এলএনজির দাম ছিল ১১ থেকে ১২ ডলারের মধ্যে। অর্থাৎ সংঘাতের পর স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম আগের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেড়েছে।

তবে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানিতে আপাতত কোনো ভর্তুকি দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এর পরিবর্তে ভর্তুকির সমন্বয় আগের ঋণ এবং গতিশীল মূল্য নির্ধারণের সূত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে করার পরামর্শ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি ও আমদানি ব্যয়ের প্রভাবের মধ্যে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে দেশের সব ধরনের জ্বালানির দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। নতুন দরে বর্তমানে ডিজেল বিক্রি হচ্ছে লিটারপ্রতি ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকা দরে।

ফলে একদিকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য ও সরবরাহ পরিস্থিতির কারণে সরকারের ব্যয় ব্যবস্থাপনায়ও নতুন করে চাপ তৈরি হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বিভাগে তিন দিনের সফরে যাচ্ছেন পেশাজীবী দলের মুখপাত্র- নাফিজ মাহবুব

সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও পেশাজীবীদের সম্পৃক্ততা...

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরতে পরতে হাসনাত-সারজিসের গাদ্দারি খুঁজে পাওয়া যাবে: রাশেদ খাঁন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায়ে হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের ‘গাদ্দারি’...