বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে আয়োজিত এক মাহফিলে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। মাহফিলে দেশের চলমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি, নৈতিকতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ, মানুষের অধিকার এবং সমাজে বিদ্যমান বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে বক্তব্য দেন তিনি।
বক্তব্যের শুরুতে তিনি সমাজ ও রাষ্ট্রে ন্যায়বিচার, সততা এবং জবাবদিহিতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তার মতে, ব্যক্তি ও রাষ্ট্রীয় জীবনে নৈতিকতার চর্চা না থাকলে দুর্নীতি, অনিয়ম ও মানুষের অধিকার হরণের মতো ঘটনা বাড়তে থাকে। এ কারণে অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন হওয়ার পাশাপাশি প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
মাহফিলে দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন চরমোনাই পীর। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের প্রতিফলন থাকা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘দেশ খেয়েছে খাজুরেরা, নাম পড়েছে হুজুরের।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইসলামিক দল নাম দিয়ে, বেপর্দা নারীদের দিয়ে মিছিল-মিটিং করে—এরা কেমন ইসলামিক দল?’ এ বক্তব্যের মাধ্যমে রাজনৈতিক দল ও কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ধর্মীয় আদর্শের সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজন বলে মত দেন তিনি।
চরমোনাই পীর বলেন, যারা মুসলমান, তারা মিথ্যা বলতে পারে না। তার বক্তব্যে ধর্মীয় আদর্শের সঙ্গে ব্যক্তি ও রাজনৈতিক জীবনের কর্মকাণ্ডের সামঞ্জস্য রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে সমাজে ন্যায়, সততা ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মাহফিলে তিনি দেশের বিভিন্ন সামাজিক অনাচার ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও সমালোচনা করেন। বিশেষ করে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, লুটতরাজসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলেন তিনি। এসব কর্মকাণ্ড বন্ধে সামাজিকভাবে সচেতনতা তৈরি এবং ন্যায় ও নীতির ভিত্তিতে সমাজ পরিচালনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
সাম্প্রতিক সময়েও বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্যে চরমোনাই পীর দেশের চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, লুটতরাজসহ নানা ধরনের সামাজিক অনাচার নিয়ে সমালোচনা করে আসছেন। একই সঙ্গে ইসলামি মূল্যবোধ ও নৈতিকতার ভিত্তিতে ব্যক্তি ও সমাজজীবন পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন তিনি।
