গত ২৭ সেপ্টেম্বর অটো প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের ছাপাখানা থেকে তিন ট্রাকে বই তোলার পর একটি গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড—এনসিটিবি জানতে পারে, বইগুলোর প্রায় ৬০ শতাংশ নিম্নমানের। এরপর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এনসিটিবির মনিটরিং টিমের পাশাপাশি দুটি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বইগুলো জব্দ করেন। প্রায় তিন দিন আটকে রেখে পুনরায় মান যাচাইয়ের পর দেখা যায়, মাত্র ১৪৬টি বইয়ের কাভারে সামান্য দাগ রয়েছে। এসব বই বাতিল করে বাকি ৪ লাখ ৩০ হাজার ২৫৫ কপি বই ডেলিভারির অনুমতি দেওয়া হয় গত ৩০ সেপ্টেম্বর।
ইন্সপেকশন এজেন্ট ইনডিপেনডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডির স্বত্বাধিকারী শেখ বেলাল হোসাইন দাবি করেছেন, তার প্রতিষ্ঠান নিয়ম অনুযায়ী প্রি-ডেলিভারি ইন্সপেকশন করেছিল এবং পরবর্তী পরীক্ষায় সেই প্রতিবেদনই সঠিক প্রমাণিত হয়েছে। তবে এনসিটিবির মনিটরিং টিমের সঙ্গে সমন্বয়ের কারণে পিডিআই ও বই সরবরাহে বিলম্ব হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে এনসিটিবি সূত্রের বরাতে আরও জানা গেছে, কয়েকটি ছাপাখানায় নিম্নমানের কাগজ ও কালি ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কিছু প্রতিষ্ঠানের ফর্মাও বাতিল করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ছোট ছাপাখানাগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে এখনো তেমন ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না।
এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা জানিয়েছেন, মানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ব্যত্যয় পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং নিম্নমানের ফর্মা সঙ্গে সঙ্গে বাতিল করা হচ্ছে।
এদিকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কারণে বই ছাপা ও সরবরাহে বিলম্বের আশঙ্কা করছেন কয়েকজন ছাপাখানা মালিক। তবে এনসিটিবির সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসের বলেছেন, পাঠ্যবইয়ের মানের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
