Amyal TV
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
১১ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
১১ কার্তিক ১৪৩৩

মালয়েশিয়ায় ২৮৭ দিনে আটক বাংলাদেশিসহ ৬৫ হাজারের বেশি বিদেশি

মালয়েশিয়ায় চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২৮৭ দিনে ৬৫ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। এ সময়ে দেশজুড়ে ১১ হাজারের বেশি অভিযান পরিচালনা করে ১ লাখ ৪৬ হাজারেরও বেশি বিদেশি নাগরিকের নথিপত্র যাচাই করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৪৫ হাজারের বেশি মানুষকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

Amyal TV
৪ মিনিট পড়ুন

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের উপমহাপরিচালক (অপারেশন) দাতুক লোকমান এফেন্দি রামলি এ তথ্য জানিয়েছেন। তাঁর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ওই ২৮৭ দিনে প্রতিদিন গড়ে ৩৮টির বেশি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। একই সময়ে দৈনিক গড়ে ৫১১ জন বিদেশি নাগরিকের নথিপত্র যাচাই এবং ২২৮ জনকে আটক করা হয়েছে।

লোকমান এফেন্দি জানান, দেশটিতে অভিবাসন আইন লঙ্ঘন প্রতিরোধে নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অভিযানে বৈধ ভ্রমণ নথি বা অবস্থানের অনুমতিপত্র না থাকা, অনুমোদিত সময়সীমার বেশি অবস্থান করা এবং পাস বা ওয়ার্ক পারমিটের অপব্যবহারের মতো বিভিন্ন অনিয়ম শনাক্ত হচ্ছে। আটক ও নিজ দেশে ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমারের নাগরিকদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে।

সম্প্রতি কেলান্তান রাজ্যের কুবাং কেরিয়ানে ইউনিভার্সিটি সায়েন্স মালয়েশিয়ার একটি বিশেষায়িত হাসপাতালের নির্মাণস্থলে অভিযান চালায় অভিবাসন বিভাগ। সেখানে ৫৭ জন বিদেশি নাগরিকের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। এ সময় অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের সন্দেহে ৫৫ জনকে আটক করা হয়েছে। পরবর্তী তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এদিকে, মালয়েশিয়া থেকে অবৈধ পথে বিদেশি নাগরিকদের বের করে নেওয়ার সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের সন্ধান পাওয়ার কথাও জানিয়েছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। এ ঘটনায় মিয়ানমারের ১১ নাগরিককে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজনকে বাকি ১০ জনকে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া ছাড়তে সহায়তার অভিযোগে পরিবহনকারী হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে।

অভিবাসন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ওয়াকাফ চে ইয়ে এলাকার একটি হোটেলে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের বয়স ২০ থেকে ৩৪ বছরের মধ্যে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাকি ১০ জন জোহর বাহরু ও কুয়ালালামপুর থেকে এসে ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন।

লোকমান এফেন্দি জানান, মালয়েশিয়া থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ রিঙ্গিত নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আটক করা হয়েছে। এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছে কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে, অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনার ফলে দেশটির অভিবাসন ডিপোগুলোতে ধারণক্ষমতার তুলনায় বেশি চাপ তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে অভিবাসন ডিপোগুলোর মোট ধারণক্ষমতা প্রায় ২০ হাজার জন। নিয়মিত অভিযানে আটক ব্যক্তিদের এসব ডিপোতে রাখার কারণে বিভিন্ন স্থানে ধারণক্ষমতার ওপর চাপ বাড়ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিদেশি নাগরিকদের অবস্থান শনাক্ত করতে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে বিশেষ এলাকাভিত্তিক মানচিত্র তৈরি করেছে অভিবাসন বিভাগ। এর মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকেরা কোথায় বসবাস করেন, অবস্থান করেন কিংবা একত্র হন, তা চিহ্নিত করা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় বৈধ নথিবিহীন ব্যক্তি, মেয়াদোত্তীর্ণ পাস নিয়ে অবস্থানকারী, অনুমতিপত্রের অপব্যবহারকারী এবং শরণার্থী হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদেরও শনাক্ত করা হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকের আইনগত অবস্থান বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। এসব অভিযানে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষও অংশ নিচ্ছে।

একই সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়ার কারাগারগুলোতে বন্দির সংখ্যা এবং মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধের পরিস্থিতিও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, দেশটির ৪১টি কারাগারে বর্তমানে প্রায় ৯০ হাজার বন্দি রয়েছেন। তাঁদের আনুমানিক ৭৫ শতাংশ মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িত। বন্দিদের একটি বড় অংশ বিপজ্জনক মাদক আইন, ১৯৫২-এর বিভিন্ন ধারার আওতায় সংশ্লিষ্ট অপরাধে দণ্ডিত বা আটক রয়েছেন। কেলান্তানের কোটা ভারুর পেঙ্গকালান চেপা কারাগার অতিরিক্ত বন্দির চাপে থাকা কারাগারগুলোর মধ্যে অন্যতম।

বয়সভিত্তিক পরিসংখ্যান তুলে ধরে সাইফুদ্দিন নাসুতিওন বলেন, ১৫ থেকে ৩৯ বছর বয়সীরা বন্দিদের মধ্যে সবচেয়ে বড় গোষ্ঠী। ১৫ বছরের কম বয়সীদের মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টিও উদ্বেগজনক। বেকার ব্যক্তিদের মধ্যে মাদকের অপব্যবহারের প্রবণতা বেশি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলে কৃত্রিম মাদকের ব্যবহার তুলনামূলক বেশি। অন্যদিকে, পশ্চিম উপকূলে কৃত্রিম ও অ-কৃত্রিম—উভয় ধরনের মাদকের ব্যবহার দেখা যাচ্ছে। সহজলভ্যতার কারণে কৃত্রিম মাদকের ব্যবহার বাড়ছে বলেও জানান তিনি।

মালয়েশিয়ার কেলান্তান, কেদাহ, পারলিস ও তেরেঙ্গানু রাজ্যে প্রতি এক লাখ মানুষের বিপরীতে মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধের হার জাতীয় গড়ের চেয়ে বেশি। এ ক্ষেত্রে কেদাহর পেনদাং জেলায় হার সর্বোচ্চ। এরপর রয়েছে কেলান্তানের কুয়ালা ক্রাই। এ ছাড়া কেলান্তানের তুমপাত, তানাহ মেরাহ ও বাচোক এবং তেরেঙ্গানুর বেসুত জেলায় প্রতি এক লাখ মানুষের বিপরীতে মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধের হার এক হাজার ছাড়িয়েছে।

সাইফুদ্দিন নাসুতিওন বলেন, এসব পরিসংখ্যান কাজে লাগিয়ে মাদক প্রতিরোধ এবং আইন প্রয়োগের কার্যক্রম আরও সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর করা হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতীয় মাদকবিরোধী সংস্থা, পুলিশ এবং রাজ্য সরকারগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সব মিলিয়ে, মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদারের পাশাপাশি আটক ব্যক্তিদের রাখার ব্যবস্থা এবং কারাগারগুলোতে অতিরিক্ত বন্দির চাপ সামলানো দেশটির কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনকারীদের শনাক্ত ও ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম চলছে, অন্যদিকে কারাগারে বন্দির সংখ্যা এবং মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধ নিয়ন্ত্রণেও বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

চট্টগ্রাম বিভাগে তিন দিনের সফরে যাচ্ছেন পেশাজীবী দলের মুখপাত্র- নাফিজ মাহবুব

সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও পেশাজীবীদের সম্পৃক্ততা...

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরতে পরতে হাসনাত-সারজিসের গাদ্দারি খুঁজে পাওয়া যাবে: রাশেদ খাঁন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায়ে হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের ‘গাদ্দারি’...