জাপানের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট ফুজিতে দুই ছেলেকে নিয়ে হাইকিংয়ে গিয়েছিলেন ৪৮ বছর বয়সী ওই বাবা। পথে ছোট ছেলে ক্লান্ত হয়ে পড়লে তাকে ষষ্ঠ স্টেশনের কাছে একটি বেঞ্চে বসিয়ে রেখে ‘সেখানে অপেক্ষা করতে’ বলেন তিনি। এরপর বড় ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে চূড়ার দিকে এগিয়ে যান।
এ সময় ওই এলাকায় ছিল ঘন কুয়াশা এবং ঝিরঝির বৃষ্টি। শিশুটির কাছে ছিল শুধু একটি কোমল পানীয় ও কিছু হালকা খাবার।
পরে মাউন্ট ফুজির একটি আশ্রয়কেন্দ্রের কর্মীরা শিশুটিকে একা অবস্থায় দেখতে পান। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তাকে উদ্ধার করে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
পুলিশ তদন্ত শুরু করে শিশুটির বাবার খোঁজে। একপর্যায়ে সপ্তম ও অষ্টম স্টেশনের মাঝামাঝি এলাকায় তাকে পাওয়া যায়। শিশুটিকে যেখানে রাখা হয়েছিল, সেখান থেকে বাবার অবস্থান ছিল প্রায় তিন ঘণ্টার হাঁটার পথ দূরে।
প্রায় আট ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর শিশুটি ক্লান্ত ও বিরক্ত হয়ে পড়েছিল বলে জানা গেছে। পরে বাবা ফিরে এসে ছেলের সঙ্গে দেখা করেন।
ঘটনায় পুলিশ ওই বাবাকে তিরস্কার করে জানায়, এভাবে একটি শিশুকে পাহাড়ে একা রেখে যাওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রয়োজনে একসঙ্গে পর্বতারোহণের পরিকল্পনা বাদ দেওয়া উচিত ছিল।
নিজের সিদ্ধান্তের জন্য ওই ব্যক্তি পরে ক্ষমা চেয়েছেন বলে জানা গেছে।
মাউন্ট ফুজির উচ্চতা প্রায় ১২ হাজার ৩৮৯ ফুট বা ৩ হাজার ৭৭৬ মিটার। এটি জাপানের সর্বোচ্চ পর্বত এবং ২০১৩ সালে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদা পায়।
প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ মানুষ মাউন্ট ফুজিতে আরোহণ করেন। তবে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকায় বিভিন্ন রুটে আরোহীর সংখ্যার ওপরও বিধিনিষেধ রয়েছে।
শিশুটিকে শেষ পর্যন্ত নিরাপদে উদ্ধার করা গেলেও, বাবার এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে।
