রোববার দিবাগত রাত ১২টার দিকে পৌর শহরের টিনপট্টি এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে রাত তিনটার দিকে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আল আমিন ভৈরব পৌর শহরের আড়াইবেপারী এলাকার জসিম উদ্দিনের ছেলে। তিনি সারের ব্যবসা করতেন। পাশাপাশি ভৈরব বাজারে ‘রিভারভিউ’ নামে একটি আবাসিক হোটেলের মালিক ছিলেন। তিনি ভৈরব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক পরিচালকও ছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আল আমিনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। এসব মামলায় তিনি দুবার গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন। বর্তমানে জামিনে ছিলেন তিনি। এরপর থেকে অনেকটা আড়ালে জীবনযাপন করছিলেন।
জানা গেছে, কয়েক বছর ধরে পৈতৃক বাড়িতে থাকতেন না আল আমিন। স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে শহরের রানীবাজার এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।
রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে আল আমিন তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘রিভারভিউ’ হোটেলে ছিলেন। রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে মোটরসাইকেলে করে বাসার উদ্দেশে রওনা হন তিনি। বাসার সড়কে ঢোকার পর কিছুদূর এগোতেই কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাঁকে ঘিরে ধরে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।
হামলায় তাঁর মাথায় একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। একটি পায়ের রগও কেটে দেওয়া হয়। এতে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, আল আমিনের বাসায় যাওয়ার সড়কটি রাতে বেশ নির্জন থাকে। হামলার সময় চিৎকার শুনে তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েকজনকে চলে যেতে দেখেন। তখন রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে পড়ে ছিলেন আল আমিন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাঁর মাথা ও মুখ রক্তে ঢেকে গিয়েছিল।
আল আমিনের স্ত্রী তানিয়া খানম জানান, রাত ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে স্বামীর সঙ্গে তাঁর সর্বশেষ কথা হয়। তখন আল আমিন জানিয়েছিলেন, তিনি হোটেলে আছেন এবং পাঁচ মিনিটের মধ্যে বাসায় ফিরবেন। এ সময় তাঁকে রাতের খাবার প্রস্তুত রাখতে বলেছিলেন তিনি।
তবে কেন এবং কারা আল আমিনকে হত্যা করেছে, সে বিষয়ে কোনো ধারণা করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন তাঁর স্ত্রী।
ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহাবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। হত্যার কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
