সোমবার সকালে উপজেলার নিলখী এলাকায় নদে শিশুটির মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ও নৌ-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, গ্রেপ্তার এক আসামির দেওয়া তথ্য ও স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে নদ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ আগস্ট শিবচরের মাদবরচর ইউনিয়নের বাখরেরকান্দি এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ। নিহত নারীর বাড়ি নাটোরের লালপুর এলাকায়। এ ঘটনায় তাঁর বাবা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে শিবচর থানায় মামলা করেন।
পুলিশ জানায়, প্রায় তিন বছর আগে মাদারীপুর সদর উপজেলার বড়মেহের এলাকার সাহাবুদ্দিন হাওলাদারের সঙ্গে ওই নারীর বিয়ে হয়। তাঁদের একমাত্র সন্তান ছিল এক বছরের আবির। ওই নারীর স্বামী একটি মামলায় কারাগারে থাকাকালে শিবচরের বাখরেরকান্দি এলাকার ফারুক মোল্লার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়।
পুলিশের দাবি, ফারুক ওই নারীকে তাঁর বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করেন। পরে মরদেহ জঙ্গলে ফেলে রাখা হয় এবং তাঁর শিশুসন্তানকে আড়িয়াল খাঁ নদে ফেলে দেওয়া হয়।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাজৈর এলাকা থেকে ফারুক মোল্লাকে গ্রেপ্তার করে শিবচর থানা-পুলিশ ও র্যাব-৮। তাঁর কাছ থেকে নিহত নারীর ব্যবহৃত মালা, ওড়না ও এক জোড়া জুতা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক শিশুটিকে আড়িয়াল খাঁ সেতু থেকে নদে ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। এরপর থেকেই শিশুটির সন্ধানে নদে অভিযান চালানো হচ্ছিল।
ঘটনার পাঁচ দিন পর সোমবার নদ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার হলো। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
