Amyal TV
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৭ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৭ ভাদ্র ১৪৩৩

ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স’ পর্বতে শিগগিরই হামলার হুমকি ট্রাম্পের

ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স’ পর্বতে খুব শিগগির যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতকে ‘ছোটখাটো বিষয়’ হিসেবে উল্লেখ করে এটিকে যুদ্ধের পরিবর্তে ‘সামরিক সংঘাত’ বলতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

Amyal TV
৪ মিনিট পড়ুন

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব মন্তব্য করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতকে যুদ্ধ বলা যায় কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি এটিকে ‘সামরিক সংঘাত’ হিসেবে অভিহিত করতে পছন্দ করেন। তার ভাষায়, অনেকেই এটিকে যুদ্ধ বলেন না এবং তিনিও এটিকে সামরিক সংঘাত হিসেবে দেখছেন।

ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিরতি দিয়ে দিয়ে ইরানে হামলা চালাচ্ছে। তার দাবি, এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় কোনো বিষয় নয়; বরং এটি তুলনামূলকভাবে ছোটখাটো একটি সামরিক সংঘাত।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ধারাবাহিকভাবে হামলা করছে না। বরং বিভিন্ন সময় বিরতি দিয়ে হামলা চালানো হচ্ছে। সম্প্রতি ইরানের রাডারব্যবস্থায় হামলা চালানোর আগেও কয়েক দিন সেখানে সক্রিয় কোনো লড়াই হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এখন লড়াই করছি না। কোনো লড়াই হচ্ছে না।’

তবে একই সময়ে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরানের রাডার, উড়োজাহাজ ও অন্যান্য সামরিক ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণের জন্য মাইনসুইপার বা মাইন অপসারণকারী জাহাজ ব্যবহার করে সেখানকার মাইন সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও বক্তব্য দেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা থেকে বিরত রাখতে সক্ষম হয়েছে। তার মতে, এর ফলে শুধু ইসরায়েল নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তাও নিশ্চিত হয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, ‘তারা (ইরান) পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না। আমরা সেটিই করেছি। ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না।’

তিনি আরও বলেন, ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারত। এমনকি তার দাবি, ইরানের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে সাংবাদিকদের পক্ষে হয়তো সেখানে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা সম্ভব হতো না।

এদিকে ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স’ পর্বত নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ওই স্থাপনায় হামলার সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র খুব শিগগিরই পিকঅ্যাক্সে হামলা চালাতে পারে।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, পিকঅ্যাক্স পর্বতসহ ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কারা চলাফেরা করছে এবং সেখানে কী ধরনের কার্যক্রম চলছে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পূর্ণাঙ্গ তথ্য রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিকঅ্যাক্স পর্বত ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনার কাছাকাছি অবস্থিত অত্যন্ত সুরক্ষিত একটি ভূগর্ভস্থ স্থাপনা। পাহাড়ের শত শত মিটার পুরু গ্রানাইট স্তরের নিচে সেখানে দুটি টানেল কমপ্লেক্স রয়েছে বলে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ধারণা, এসব ভূগর্ভস্থ স্থাপনার কোনো একটিতে গোপন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম পরিচালিত হতে পারে।

তবে ইরান বরাবরই এই স্থাপনা সম্পর্কে ভিন্ন দাবি করে আসছে। তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী, পিকঅ্যাক্সের ভূগর্ভস্থ স্থাপনা উন্নতমানের সেন্ট্রিফিউজ তৈরি ও সংযোজনের কাজে ব্যবহৃত হয়। গভীর ভূগর্ভে এবং অত্যন্ত সুরক্ষিত অবস্থানে থাকায় এই স্থাপনায় সরাসরি হামলা চালিয়ে তা ধ্বংস করা বেশ কঠিন বলে মনে করা হয়।

এ কারণেই পিকঅ্যাক্সকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর এই স্থাপনায় সম্ভাব্য মার্কিন হামলা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

চলমান সংঘাত ঠিক কবে শেষ হবে—এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দেননি ট্রাম্প। তবে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য অর্জন করেছে।

ট্রাম্পের ভাষায়, ‘আমরা ইতিমধ্যে সবচেয়ে বড় বিষয়টি অর্জন করেছি—ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না।’

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র যদি এখনই ইরান থেকে সামরিকভাবে সরে যায়, তাহলেও দেশটির অবকাঠামো ও সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করতে তেহরানের দীর্ঘ সময় লাগবে বলে দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সক্ষমতা ও অবকাঠামো পুনর্গঠনে ইরানের প্রায় ২৫ বছর সময় লেগে যেতে পারে।

তবে ট্রাম্পের এসব দাবির বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে সংঘাতের পরবর্তী গতিপথ এবং পিকঅ্যাক্স পর্বতকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ এখন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজরে রয়েছে।

দুর্নীতিমুক্ত আদালত গঠনে প্রধান বিচারপতিকে বার সভাপতির এক মাসের আল্টিমেটাম

আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগকে দুর্নীতিমুক্ত করতে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের...

ড. ইউনূসকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে: হাইকোর্টের রায়

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান...