বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে বলে তিনি মনে করছেন। তার দাবি, ইরান আর বেশি সময় ধরে এই সংঘাত চালিয়ে যেতে পারবে না। পাশাপাশি মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে ইরান এবং এ কারণে দেশটি মরিয়া হয়ে উঠেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে ট্রাম্পের এমন আশাবাদী বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন হোয়াইট হাউজের শীর্ষ কয়েকজন উপদেষ্টা। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত আলোচনায় ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন। তাদের আশঙ্কা, ইরানের সঙ্গে এই সংঘাত ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্তও চলতে পারে। ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৯ সালের জানুয়ারিতে।
এর আগে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ও সংঘাত শেষ করার বিষয়ে একাধিক সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে তার দেওয়া এসব সময়সীমার কোনোটিই স্থায়ীভাবে সংঘাতের অবসান ঘটাতে পারেনি।
পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে ফের হামলার হুমকি
এদিকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন নিয়েও নতুন করে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প। ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত নাতাঞ্জ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনার কাছাকাছি অবস্থিত অত্যন্ত সুরক্ষিত এই এলাকায় ভূগর্ভের গভীরে নির্মিত দুটি টানেল কমপ্লেক্স রয়েছে।
রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচন সম্মেলনে দেওয়া এক ভাষণে ট্রাম্প বলেন, পিকঅ্যাক্স এলাকায় কিছু তৎপরতা তার নজরে এসেছে। ইরানকে কোনো ধরনের চালাকি না করার জন্য সতর্ক করে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির ওপর অত্যন্ত কঠোর হামলা চালাবে। এর আগে জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময় থেকেই পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে হামলার হুমকি দিয়ে আসছেন ট্রাম্প।
ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগকে এই অভিযানের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে ইরান শুরু থেকেই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
সৌদি আরবেও বাড়ছে উত্তেজনা
অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনার পাশাপাশি ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিদের সঙ্গে সৌদি বাহিনীর সংঘর্ষও সাম্প্রতিক সময়ে আরও তীব্র হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চতুর্থবারের মতো জরুরি সতর্কতা জারি করে দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ।
এর আগে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছিল, সাম্প্রতিক হুথি হামলায় খামিস মুশাইতসহ দক্ষিণ সৌদি আরবের চারটি শহরে অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন। হুথিরা দাবি করেছে, তারা খামিস মুশাইতের একটি বিমানঘাঁটি এবং আশপাশের কয়েকটি শহরের তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
বৃহস্পতিবার সর্বশেষ জরুরি সতর্কতা জারির পর সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল, লোহিত সাগরের নিরাপত্তা এবং ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন গোষ্ঠীর সক্রিয়তা—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এখনো বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
