রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে চারটার দিকে উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের বাসাবাড়ি বাজারসংলগ্ন আশহক ব্যাপারীবাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনে বসতঘরগুলোর আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়, নগদ টাকা ও প্রয়োজনীয় বিভিন্ন মালামাল পুড়ে গেছে। আগুনের তীব্রতায় অনেক পরিবার ঘর থেকে কোনো মালামালই বের করতে পারেনি।
পুলিশের কাছে সোপর্দ করা ব্যক্তির নাম মো. সোহেল (৪০)। তিনি ওই এলাকারই বাসিন্দা। অগ্নিকাণ্ডে তার নিজের ঘরও পুড়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মারধরে আহত সোহেলকে পরে উদ্ধার করে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভোর সাড়ে চারটার দিকে সোহেলের ঘর থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি পেট্রল ছিটিয়ে নিজের ঘরে আগুন দেন। পরে মুহূর্তের মধ্যেই আগুন আশপাশের বসতঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। টিনের তৈরি ঘর হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের একজন ছিদ্দিক উল্যাহ। তিনি পেশায় কৃষক। আগুনে তার পুরো বসতঘর পুড়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘সোহেল পেট্রল ছিটিয়ে নিজের ঘরে আগুন দেন। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় আমার ঘরও পুড়ে যায়। ঘরে থাকা সব মালামাল ও টাকাপয়সা পুড়ে গেছে। এক মুঠো চাল, এমনকি একটি কাপড়ও বের করতে পারিনি।’
ক্ষতিগ্রস্ত আরেক বাসিন্দা আহসান উল্লাহ বলেন, ‘আগুনে আমাদের ঘরের সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। পরনের কাপড় ছাড়া কিছুই বের করতে পারিনি। ঘরে থাকা টাকাপয়সা, আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়—সব শেষ। মুহূর্তের মধ্যে চোখের সামনে আমাদের শেষ সম্বলটুকুও পুড়ে গেল। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকব, কীভাবে আবার ঘর তুলব, কিছুই বুঝতে পারছি না।’
আগুন লাগার খবর পেয়ে রায়পুর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট এবং লক্ষ্মীপুরের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় সকালে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তবে এর আগেই আগুনে ১১টি বসতঘর পুড়ে যায়।
এ ঘটনায় সোনাপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান বি এম শাহজালাল কিসমত বলেন, ‘সোহেল নিয়মিত মাদক সেবন করেন। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তিনি প্রথমে পেট্রল দিয়ে নিজের ঘরে আগুন দেন। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে।’
রায়পুর ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ সৈয়দ আহমেদ বলেন, ‘পুড়ে যাওয়া ঘরগুলো টিনের তৈরি। প্রাথমিকভাবে প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘আগুনে ১১টি ঘর পুড়ে গেছে। স্থানীয় লোকজনের মারধরের পর সোহেলকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। এক রাতেই বসতঘর, আসবাবপত্র, পোশাক, নগদ অর্থসহ প্রয়োজনীয় সবকিছু হারিয়ে অনেক পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে পড়েছে। ঘটনার কারণ ও এর সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত করছে পুলিশ।
