সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হেলমেট পরা অবস্থায় মোটরসাইকেল চালিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাবেষ্টনী অতিক্রম করে গাড়িবহরের মধ্যে ঢুকে পড়েন মুবিন। একপর্যায়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পতাকাশোভিত গাড়ির বাঁ পাশের জানালার একেবারে কাছে চলে যান। গাড়িবহর চলন্ত অবস্থায় কালো কাচের জানালার পাশে গিয়ে তাকে হাত উঁচিয়ে সালাম দিতেও দেখা যায়।
হঠাৎ করে নিরাপত্তাবেষ্টনী অতিক্রম করে প্রধানমন্ত্রীর গাড়ির এতটা কাছে চলে যাওয়ায় মুবিনের আচরণ নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। বিষয়টি নজরে আসার পর পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আটক করে। পরে তাকে তেজগাঁও থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটকের পর মুবিনের দেহতল্লাশি করা হয়। তবে তার কাছ থেকে সন্দেহজনক কোনো বস্তু পাওয়া যায়নি। এরপরও প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরের নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেদ করে ভেতরে ঢুকে পড়ার ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখে পুলিশ। তার উদ্দেশ্য কী ছিল এবং কীভাবে তিনি নিরাপত্তাবেষ্টনী অতিক্রম করে গাড়িবহরের কাছে পৌঁছালেন, তা জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
মুবিন বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের রাকুদিয়া গ্রামের প্রয়াত প্রধান শিক্ষক ইউনুস মাঝির ছেলে। ঢাকায় তিনি রাইড শেয়ারিংয়ের কাজ করতেন বলে জানা গেছে।
আটকের পর তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুনিরুজ্জামান জানিয়েছিলেন, মুবিনের দেহতল্লাশি করে কোনো ধরনের সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যায়নি। তবে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরের মধ্যে ঢুকে পড়ার তার আচরণকে রহস্যজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ওসি মো. মুনিরুজ্জামান আরও জানান, মুবিনের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে খোঁজ নিয়ে বরিশালের বাবুগঞ্জ এলাকায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এ কারণে তার রাজনৈতিক পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর মুবিনকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। গাড়িবহরে ঢুকে পড়ার পেছনে তার উদ্দেশ্য কী ছিল, তিনি একা ছিলেন কি না এবং এ ঘটনায় অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেঙে গাড়িবহরের মধ্যে ঢুকে পড়ার ঘটনায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সোমবার আদালতে হাজির করা হলে মুবিনকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং এর পেছনে কোনো পরিকল্পনা ছিল কি না, তা জানার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি তার রাজনৈতিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্মকাণ্ড সম্পর্কেও তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ঘিরে এমন ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিভিন্ন দিকও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তাবেষ্টনী ও গাড়িবহর চলাচলের সময় আরও সতর্কতা অবলম্বনের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
