সাদিয়া আক্তার সদর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে। তিনি নেত্রকোনা সরকারি কলেজের স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। পাশাপাশি তিনি জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েকজনকে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে সাদিয়া আক্তার তাঁদের কাছ থেকে তিন হাজার টাকা করে নেন। গতকাল বিকেলে কুড়পাড় এলাকায় আরও একজনের কাছ থেকে টাকা নিতে গেলে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি জানতে পেরে তাঁকে আটক করেন। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হলে তাঁকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
এ ঘটনায় আজ সকালে পৌর শহরের বলাইনগুয়া চেয়ারম্যানবাড়ি এলাকার বাসিন্দা সুমন মিয়ার স্ত্রী প্রিয়া আক্তার বাদী হয়ে নেত্রকোনা মডেল থানায় সাদিয়া আক্তারের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করেন।
প্রিয়া আক্তারের অভিযোগ, তাঁকে সহ পাঁচজনকে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে সাদিয়া প্রথমে পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে পাঁচজনের কাছ থেকে তিন হাজার টাকা করে নেন তিনি। গতকাল বিকেলে তাঁকে আরও দুই হাজার টাকা দেওয়ার জন্য বলেন এবং পরদিনই ফ্যামিলি কার্ড হয়ে যাবে বলে আশ্বাস দেন।
প্রিয়া আক্তার আরও বলেন, পরে সাদিয়া আরও কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নিতে গেলে স্থানীয় লোকজন তাঁকে আটক করেন। তাঁরা ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার আশায় এবং বিষয়টি সত্য মনে করেই সাদিয়াকে টাকা দিয়েছিলেন।
এদিকে নেত্রকোনা সদর উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাজ উদ্দিন ফারাস। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে কেউ কারও কাছ থেকে টাকা চাইলে তাঁকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা উচিত।
তবে সাদিয়া আক্তারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এনসিপির জেলা কমিটির সদস্যসচিব ফাহিম রহমান খান পাঠান। তিনি বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। সাদিয়া চক্রান্তের শিকার হয়ে থাকতে পারেন। তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রও হয়ে থাকতে পারে। তবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে ফাহিম রহমান খান বলেন, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে দলের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অর্থ নেওয়ার অনুমতি বা নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তাই অভিযোগের প্রকৃত ঘটনা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের। তিনি জানান, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সাদিয়া আক্তার কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা হয়েছে এবং মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাঁকে আদালতে পাঠানো হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও অন্যান্য তথ্য যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
