সকালেই শ্রমিকেরা কারখানায় কাজে যোগ দেন। তবে দুপুরের খাবারের সময়ের মধ্যে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক না হওয়ায় বিভিন্ন কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। পরে শ্রমিকদের ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়।
শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহের শিল্পাঞ্চলে ২৯৩টি কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে ৯৯টি গ্যাসচালিত। গ্যাসের চাপ কম থাকায় প্রায় সব গ্যাসনির্ভর কারখানাতেই উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে প্রধান কারখানাগুলোতে উৎপাদন গড়ে প্রায় ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে।
গ্যাস-সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে টেক্সটাইল ও সুতা তৈরির কারখানাগুলো। গৌরীপুরের টয়ো স্পিনিং মিলসের ৫০টি মেশিনের মধ্যে ৪৩টিই বন্ধ রয়েছে। ভালুকার সীমা স্পিনিং মিলসের সবগুলো মেশিনই বন্ধ হয়ে গেছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন কমেছে প্রায় ৫০ শতাংশ।
এ ছাড়া বাশার স্পিনিং, নরটেক্স টেক্সটাইল, ডেল্টা স্পিনার্সসহ বিভিন্ন কারখানায় উৎপাদন ৫০ শতাংশ বা তার বেশি কমেছে। সিরামিক কারখানার ফার্নেস বন্ধ থাকায় সেখানেও উৎপাদন নেমে এসেছে অর্ধেকের নিচে।
শিল্প পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, সকাল থেকেই গ্যাসের চাপ কমতে শুরু করে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় মাহাদি সোয়েটার্স, সুলতানা সোয়েটার্স, লিজ ফ্যাশন, টিএম টেক্সটাইল, ত্রিশাল টেক্সটাইল ও বিএসপি স্পিনিং মিলসহ ২০টি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়েছে।
কারখানা কর্তৃপক্ষ বলছে, দীর্ঘদিন ধরেই গ্যাসের চাপ প্রয়োজনের তুলনায় কম। ফলে জেনারেটর ও বিদ্যুৎ ব্যবহার করে উৎপাদন সচল রাখার চেষ্টা করা হলেও তা যথেষ্ট হচ্ছে না।
তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তারা বলছেন, সরবরাহ কম পাওয়ার কারণেই বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে গেছে। ফলে ময়মনসিংহের শিল্পাঞ্চলে গ্যাস-সংকট কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
