ডিলারের দাবি, গুদাম থেকে প্রায় এক থেকে দেড় শ বস্তা ইউরিয়া সার নিয়ে গেছেন কৃষকেরা। তবে সার লুটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রৌমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম বসুনিয়া। তাঁর দাবি, সার লুটের যে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, সেটি ভুয়া। বন্দবেড় ইউনিয়নে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। রৌমারী উপজেলায় ৪২ হাজার কৃষক রয়েছেন এবং তাঁরা সবাই সঠিকভাবে সার পাচ্ছেন।
একই দিন জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় চাহিদামতো সার না পাওয়ার অভিযোগে সড়ক অবরোধ করেন কৃষকেরা। এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকেও কিছুক্ষণ অবরুদ্ধ করে রাখেন তাঁরা।
স্থানীয় একাধিক কৃষক জানান, সোমবার বন্দবেড় বাজারে সার বিতরণের কথা ছিল। এ জন্য কৃষকেরা রাত দুইটা থেকেই গুদামের সামনে এসে লাইনে দাঁড়াতে শুরু করেন। কিন্তু সকাল হয়ে গেলেও সার বিতরণ শুরু না হওয়ায় তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। সকাল ৯টা থেকে ১০টার দিকে একপর্যায়ে কয়েকজন কৃষক গুদামের টিনের বেড়া ও দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে তাঁরা সেখান থেকে সার নিয়ে বেরিয়ে যান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন কৃষক গুদামের বেড়া ও দরজা ভেঙে ভেতর থেকে সার বের করছেন। কেউ মাথায় করে, আবার কেউ ভ্যানে করে সারের বস্তা নিয়ে যাচ্ছেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে নিয়ে যাওয়া সার এখনো ফেরত পাওয়া যায়নি।
গুদামে ৭৫০ বস্তা সার মজুত ছিল জানিয়ে মেসার্স মিতা হাসান এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, সকালে প্রায় এক হাজার কৃষক সার নেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। কে আগে সার নেবেন, তা নিয়ে একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তাঁরা থানায় এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে যান। এই সুযোগে কৃষকেরা গুদামের বেড়া ও দরজা ভেঙে প্রায় এক থেকে দেড় শ বস্তা সার নিয়ে যান।
সাইফুল ইসলাম বলেন, পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় গুদামে থাকা বাকি সার কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। বিতরণ শেষে হিসাব মিলিয়ে কত বস্তা সার নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওসার আলী বলেন, সকালে সার বিতরণের সময় পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়নি। এ সময় কৃষকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েক বস্তা সার নিয়ে গেছেন বলে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
ভূরুঙ্গামারীতে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ
সোমবার সকালে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট এলাকায় সার বিতরণ শুরু হলে চাহিদামতো সার না পাওয়ার অভিযোগ করেন কৃষকেরা। একপর্যায়ে তাঁরা সড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করেন। খবর পেয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গেলে ক্ষুব্ধ কৃষকেরা তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে।
ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিম উদ্দিন বলেন, উপজেলার কোনো না কোনো ইউনিয়নে প্রতিদিনই সার নিয়ে কৃষকেরা বিক্ষোভ করছেন। কোথাও কোথাও সড়ক অবরোধের ঘটনাও ঘটছে। এসব পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রতিদিনই পুলিশকে ঘটনাস্থলে যেতে হচ্ছে।
ওসি বলেন, কৃষি বিভাগে কী পরিমাণ সার মজুত রয়েছে এবং কৃষকদের চাহিদা কত—এ বিষয়গুলো পরিষ্কারভাবে জানানো হলে এ ধরনের সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব। কৃষি বিভাগ পর্যাপ্ত সার থাকার কথা বলছে, অথচ কৃষকেরা সার না পেয়ে সড়ক অবরোধ করছেন। এতে পুলিশের অন্যান্য কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
জেলায় পর্যাপ্ত সার রয়েছে বলে দাবি করেছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, আগাম ভুট্টা ও বেগুন চাষের জন্য কৃষকেরা বাড়তি সার মজুত করায় কোথাও কোথাও সাময়িক সংকট তৈরি হচ্ছে। সমন্বয়ের মাধ্যমে সার বিতরণের চেষ্টা চলছে।
এর আগে রোববার সার দিতে দেরি হওয়ার অভিযোগ তুলে নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা বাজারে এক পরিবেশকের গুদামে ভাঙচুর করেন ক্ষুব্ধ কৃষকেরা। ওই দিনও সারের দাবিতে ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় সড়কে বিক্ষোভ করেন কৃষকেরা। এ ছাড়া লালমনিরহাটেও একই দাবিতে সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটে।
এর আগে গত ২৩ আগস্ট ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাঙ্গা বাজারে এক ডিলারের গুদামের বেড়া ভেঙে ২২৫ বস্তা সার নিয়ে যান কৃষকেরা। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে ১১৫ বস্তা সার ফেরত দেন তাঁরা।
ওই ঘটনায় ধলডাঙ্গা বাজারের সারের ডিলার মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে কৃষকদের সময়মতো সার না দেওয়া এবং ক্যাশমেমোতে অসংগতির অভিযোগ ওঠে। পরে প্রতিষ্ঠানটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।
