বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে পুলিশ মিডিয়া সেলে পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—নওগাঁ সদর উপজেলার কোমাইগাড়ি পূর্বপাড়ার মোছা. চামেলী আক্তার মিলি (৪৫), আত্রাই উপজেলার বেড়াহাসন এলাকার রাকিব হাসান (২৯), বদলগাছী উপজেলার নিহনপুর পূর্বপাড়ার সোহরাব হোসেন (২৬) এবং বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার ফুটানিগঞ্জ এলাকার নাঈম হোসেন (২৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জয়পুরহাটের আক্কেলপুর থানার এক স্কুলশিক্ষকের সঙ্গে পূর্বপরিচিত ছিলেন চামেলী আক্তার মিলি। প্রয়োজনের সময় তাঁদের মধ্যে মুঠোফোনে যোগাযোগ হতো। গত ২৫ আগস্ট বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে মিলি ওই শিক্ষককে ফোন করে জরুরি কথা আছে জানিয়ে নওগাঁ শহরে তাঁর বাসায় আসতে বলেন।
জরুরি বিষয়ের কথা শুনে সরল বিশ্বাসে ওই শিক্ষক মিলির বাসায় যান। সেখানে যাওয়ার পর মিলিসহ আরও দুই-তিনজন ব্যক্তি তাঁকে আটক করেন। একপর্যায়ে মারধরের ভয় দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরে ৩০০ টাকার একটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর এবং দুই লাখ টাকার একটি চেক লিখে নেওয়ার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনার পর ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ করলে নওগাঁ সদর থানায় মামলা করা হয়। এরপর অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। প্রায় এক সপ্তাহের অভিযানের পর কথিত চক্রটির চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নওগাঁ সদর থানার অভিযানে গ্রেপ্তারের পর তাঁদের কাছ থেকে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া স্ট্যাম্প এবং দুই লাখ টাকার চেক উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আন্তঃউপজেলা ভিত্তিতে একটি প্রতারক চক্র হিসেবে কাজ করতেন। তাঁরা সুযোগ বুঝে বিভিন্ন ব্যক্তিকে নানা ধরনের প্রলোভনে ফেলে একটি নির্দিষ্ট স্থানে ডেকে নিতেন। পরে ভয়ভীতি দেখানো, ছবি ধারণ কিংবা ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে তাঁদের কাছ থেকে টাকা আদায় করতেন।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
