বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে আগে জারি করা রুল খারিজ করে আদালত এ রায় দেন।
আদালতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন ও ব্যারিস্টার ফিদা এম কামাল।
হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, আগামী তিন বছরের মধ্যে গ্রামীণ কল্যাণকে এনবিআরের দাবি করা এই ৬৬৬ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট জামিউল হক ফয়সাল।
তবে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, ‘আমরা এর বিরুদ্ধে আপিল আবেদন করবো।’
এর আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গত ৪ অক্টোবর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা পরিশোধের বিষয়ে দেওয়া একটি রায় স্বপ্রণোদিতভাবে প্রত্যাহার করে নেন হাইকোর্ট।
বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই রায় প্রত্যাহার করেন। একই সঙ্গে মামলার নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়। পরে মামলাটি শুনানির জন্য নতুন একটি বেঞ্চে পাঠানো হয়।
পুনর্মূল্যায়নের পর ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ এবং ২০১৬-১৭—এই পাঁচ করবর্ষের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে প্রদেয় করের দাবি ঘিরে ২০১৭ সালে পৃথক দুটি রিট আবেদন করে গ্রামীণ কল্যাণ।
প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত এ বিষয়ে রুল জারি করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর বৃহস্পতিবার সেই রুল খারিজ করে দেন হাইকোর্টের নতুন বেঞ্চ।
রিট আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ায় আয়কর বাবদ গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে এনবিআরের দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা আদায়ের সুযোগ তৈরি হলো।
এদিকে, হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আইনজীবী। ফলে বিষয়টি এখন উচ্চতর আদালতে গড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
